শিরোনাম
ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত সিলেটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু মঙ্গলবার সিলেটে হৃদয় হরিজন হত্যা: ১২ ঘণ্টা পরও গ্রেপ্তার নেই সিলেটের গোয়াইনঘাটে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় একমাত্র আসামীর মৃত্যুদণ্ড সিলেটসহ সারাদেশের নির্বাচন নিয়ে ঘোষণা আজ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি ভারতে বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক: যাচ্ছেন না সালাহউদ্দিন আহমদ মণিপুরে সহিংসতা: ৪৮ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু, মোদি-খেমচাঁদ বৈঠক সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ পরিবর্তনের আশ্বাস রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

https://www.emjanews.com/

19565

international

প্রকাশিত

১২ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:০৬

আন্তর্জাতিক

এসআইআর স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাহুল গান্ধী, ১০ দফা দাবি

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার তদন্ত ও স্বাধীন নিরীক্ষারও আবেদন

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:০৬

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। আবেদনে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাই, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা তদন্ত এবং প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ ১০ দফা প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারা সমর্থকদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করার পর আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে রাহুল গান্ধী সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছাতে না পারায় তাঁর পক্ষে কংগ্রেসের আইনজীবী এস প্রসন্ন আবেদনটি জমা দেন। পরে রাহুল গান্ধীও আদালতে পৌঁছান। আবেদনে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও চলমান এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

মিছিলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদবসহ বিরোধী জোটের একাধিক নেতা অংশ নেন।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। তবে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে সম্মত হননি প্রধান বিচারপতি। এরপর বিরোধীরা আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। বিরোধী নেতাদের অন্যতম দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।

আবেদনে ১০ দফা দাবি

১. এসআইআর-সংক্রান্ত সব নথি তলব: বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরুর সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত সব নথি, চুক্তি, সভার কার্যবিবরণী, আপত্তির রেকর্ড এবং ইসিনেট ও ইআরওনেট ব্যবস্থার প্রবেশসংক্রান্ত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন এসআইআর শুরুর সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ নথিও এর অন্তর্ভুক্ত।

২. সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাই: এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ, ২০২৩ সালের সংশ্লিষ্ট আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পরীক্ষা করার আবেদন জানানো হয়েছে। যথাযথ আইনি কর্তৃত্ব ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকলে তা বাতিলের দাবিও রয়েছে।

৩. দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বা আইনগত বিধান লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৩২ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

৪. অভিযোগ নিষ্পত্তি ও সিদ্ধান্তের নথিভুক্তকরণ: রাহুল গান্ধীর আবেদন ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি এবং এসআইআর-সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী গ্রহণ ও নথিভুক্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

৫. অনলাইন ফর্ম-৬ সংশোধন: ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবহৃত অনলাইন ফর্ম-৬ যেন ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালায় নির্ধারিত ফর্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

৬. স্বাধীন কমিটি দিয়ে তদন্ত ও নিরীক্ষা: সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে স্বাধীন কমিটি গঠনের আবেদন করা হয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, তথ্যভান্ডারে পরিবর্তন, ইসিনেট ও ইআরওনেট ব্যবস্থার ব্যবহার এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) প্রযুক্তিগত কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি পর্যালোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৭. বাদ পড়া ভোটারদের নাম ও কারণ প্রকাশ: এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ব্যক্তিদের নাম বুথভিত্তিক প্রকাশ, নাম বাদ দেওয়ার কারণ জানানো এবং বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক তথ্য প্রকাশের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির কার্যকর ব্যবস্থাও গড়ে তোলার দাবি রয়েছে।

৮. নোটিশ ও শুনানি ছাড়া নাম বাদ না দেওয়া: আইন অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া এবং বক্তব্য উপস্থাপনের যুক্তিসংগত সুযোগ নিশ্চিত না করে কোনো ভোটারের নাম বাদ না দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। যেসব রাজ্যে নির্বাচন সামনে রয়েছে, সেখানে যোগ্য ব্যক্তিদের আইন নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার দাবিও রয়েছে।

৯. এসআইআর প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ: আবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সব রাজ্যে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে। যোগ্য ভোটারদের অধিকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১০. প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত নির্দেশ: নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় অন্য যেকোনো নির্দেশ বা আদেশ দেওয়ার জন্যও আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক

আবেদনটির মূল বিষয় হলো, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কতটা আইনসম্মত, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়।

বিরোধী নেতারা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি নিয়ে চূড়ান্ত বিচারিক মূল্যায়ন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

আবেদনে উত্থাপিত ১০ দফা দাবি এখনো আদালতের কাছে চাওয়া প্রতিকার। এগুলোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত দেন, তা পরবর্তী শুনানি ও আদালতের আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।