`গ্রামীণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড ‘কর ফাঁকি দেওয়ার একটি ধ্রুপদি উদাহরণ'
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০০:০০
ছবি: সংগৃহীত
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে ৬৬৬ কোটি টাকার আয়কর আদায় নিয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির চেষ্টা এবং এনবিআরকে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে কঠোর পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ‘ন্যায্য রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য কোনো চেষ্টারই ত্রুটি রাখেনি’ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ডকে ‘কর ফাঁকি দেওয়ার একটি ধ্রুপদি উদাহরণ’ বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত।
গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর নিয়ে দায়ের করা রিটের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১২ অক্টোবর) এ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ে আদালত বলেছেন, এটি আবেদনকারীর কর ফাঁকি দেওয়ার একটি ধ্রুপদি উদাহরণ। আবেদনকারী একটি নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া বিষয়কে দীর্ঘায়িত করে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা সম্ভব ছিল। কিন্তু আবেদনকারী দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে প্রতিপক্ষকে তার প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার জন্য কোনো চেষ্টারই ত্রুটি রাখেনি।
আদালত রায়ে দেখিয়েছেন, দুটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য আরোপিত ৬৬৬ কোটি টাকার আয়করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হলেও একই প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭-২০১৯ করবর্ষের জন্য একই ধরনের আয়কর দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই আয়করের বৈধতা আদালতে ২০১৯ সালের ৩৬৩ নম্বর ইনকাম ট্যাক্স রেফারেন্সের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করলেও তা প্রত্যাহার করে নেয়।
এ প্রসঙ্গে আদালত বলেছেন, আবেদনকারী তার নিজস্ব অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ক্রমাগত একই বিষয় নিয়ে কথা বলে চলেছে এবং এই আদালতের আদেশের প্রতি চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে উঠেছে; যা প্রকারান্তরে আদালতের আদেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনেরই শামিল।
আয়কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া দুটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে গত ১০ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি সোমবার প্রকাশিত হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে।
রায়ে এনবিআরসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তারা আইন অনুযায়ী এবং যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে আবেদনকারীর কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন।
রায় প্রকাশের পর ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিস্তারিত রায় পাওয়ার পর তারা আপিল করবেন।
