ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত প্রকল্পের আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৯ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে উত্তোলন করে নিয়েছেন এক উদ্যোক্তা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগে সরকারি অর্থ উত্তোলন ও হিসাবের গরমিলের বিষয়টি সামনে এসেছে।
স্থানীয় ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউএনও কার্যালয়ের উদ্যোক্তা এনায়েত পাটোয়ারী চেকের টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনায়েত। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত ‘কাবিটা নীতিমালা-২০২৩’-এর আওতায় তাহিরপুর উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ডুবন্ত বাঁধ মেরামতের ব্যয়ের এক শতাংশ আনুষঙ্গিক বিল বাবদ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৯ টাকার একটি চেক প্রস্তুত করা হয়। উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব এবং পাউবোর দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা কর্মকর্তা মনির হোসেন চেকে স্বাক্ষর করে উপজেলা কমিটির সভাপতি ইউএনওর স্বাক্ষরের জন্য পাঠান। পরে চেকটি দাপ্তরিক কাজে জমা দেওয়ার জন্য অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক বিশ্বজিৎ সূত্রধরের কাছে রাখা হয়। কিন্তু বারবার যোগাযোগের পরও চেকটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ৬ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের তাহিরপুর শাখা থেকে হিসাব বিবরণী সংগ্রহ করে দেখা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের চলতি হিসাবের বিবরণী ও বিল রেজিস্টারের মধ্যে অসংগতি দেখা দেয়। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে অভিযোগ করেন মনির হোসেন।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক অর্পন যেত্রা বলেন, বেয়ারার চেক নিয়ে এলে যেকোনো ব্যক্তি টাকা তুলতে পারেন। ইউএনও কার্যালয়ের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় এনায়েত পাটোয়ারীকে চেকের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে অভিযোগে বিশ্বজিৎ সূত্রধরের নাম উঠে এলেও তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, অন্যের নামে ইস্যু করা চেকের টাকা তাঁর পক্ষে উত্তোলন করা সম্ভব নয়।
এনায়েত পাটোয়ারী বলেন, তাঁর নামে কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি। তাঁকে জড়িয়ে প্রচারিত অভিযোগকে অপপ্রচার দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর সম্পদ নিয়ে কেউ অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে।
তাহিরপুরের বর্তমান ইউএনও রিপামনি দেবী জানান, তিনি যোগদানের আগের ঘটনা এটি। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
