ইউক্রেনের ড্রোনের গতি কমাল স্টারলিংক, নেপথ্যে কি ট্রাম্প প্রশাসন?
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:০৪
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংকে হঠাৎ গতিসীমা আরোপের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার হামলার মধ্যে এই বিধিনিষেধ ইউক্রেনের সামরিক অভিযান ব্যাহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক যোগাযোগসেবা স্টারশিল্ডের গতি ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নির্ধারণের ক্ষমতা মার্কিন সরকারের হাতে। তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার রাতে স্টারলিংক নেটওয়ার্কে ঘণ্টায় ১০০ মাইল বা প্রায় ১৬০ কিলোমিটার গতিসীমা কার্যকর করা হয়। ফলে এই গতির চেয়ে দ্রুত চলাচলকারী অস্ত্রগুলো নেটওয়ার্কের সংযোগ হারাচ্ছিল। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ড্রোন পরিচালনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষার বিভিন্ন কাজে স্টারলিংকের ওপর নির্ভর করে। ফলে আকস্মিক এই পরিবর্তন দেশটির যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা সেরহি বেস্ক্রেস্তনভ মনে করেন, এই পদক্ষেপ নিছক প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়; বরং ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে। জেলেনস্কিও আশা প্রকাশ করেছিলেন, এটি হয়তো বড় ধরনের কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি। তিনি সংযোগ পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বুধবার জানান, সন্ধ্যার মধ্যে বিধিনিষেধ আংশিকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার স্বার্থে স্টারশিল্ডের গতিসীমা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য মাস্ককে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তাঁর অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন।
জবাবে মাস্ক বলেন, স্টারশিল্ডের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের হাতে। গতি বা ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং চূড়ান্তভাবে প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও দাবি করেন, স্টারলিংক বেসামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তৈরি; আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে এর ব্যবহার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুচিত।
এদিকে, বিধিনিষেধের সময় রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিয়েভসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার পর অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, অনেক বাসিন্দা ড্রোন আঘাত হানার আগে সতর্কবার্তাও পাননি।
এ ঘটনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির মতপার্থক্য এবং রাশিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে স্টারলিংকের গতিসীমা আরোপের সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
