https://www.emjanews.com/

19676

national

প্রকাশিত

১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:০৭

জাতীয়

ঘরে বসেই ই-পাসপোর্টের আবেদন, জেনে নিন নিয়ম ও খরচ

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:০৭

ছবি: সংগৃহীত

পাসপোর্ট অফিসের দীর্ঘ লাইন, দালালের হয়রানি ও আবেদনপ্রক্রিয়ার জটিলতা এড়াতে ঘরে বসেই অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যায়। সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম পূরণ, নির্ধারিত ফি পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদনপ্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হয়।

ই-পাসপোর্টে ইলেকট্রনিক চিপের মাধ্যমে পাসপোর্টধারীর পরিচয়সংক্রান্ত ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এতে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও নির্ভরযোগ্য করতে সহায়তা করে। তবে বিমানবন্দরে স্বয়ংক্রিয় ই-গেট ব্যবহারের সুযোগ সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ও কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

ই-পাসপোর্ট আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

ই-পাসপোর্টের আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি। আবেদনকারীর বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথির ধরন ভিন্ন হতে পারে।

সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা অনলাইন যাচাইযোগ্য জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়। আগে পাসপোর্ট করা থাকলে পুরোনো পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হবে। এ ছাড়া আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি, ফি পরিশোধের প্রমাণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে অনাপত্তিপত্র বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতিপত্রসহ অতিরিক্ত নথি লাগতে পারে। আবেদনকারীর বয়স, পেশা ও বিশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা সরকারি নির্দেশনা থেকে যাচাই করা উচিত।

অনলাইনে যেভাবে আবেদন করবেন

ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইট epassport.gov.bd-এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর নির্দেশনা অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

আবেদনপত্রে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। এ সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের সঙ্গে সব তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি। নামের বানান কিংবা জন্মতারিখে ভুল থাকলে পরবর্তী সময়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এরপর পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা, মেয়াদ ও সরবরাহের ধরন নির্বাচন করে আবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফি পরিশোধের পর আবেদনপত্র ও পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। সবশেষে নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে।

ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে

ই-পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা, মেয়াদ এবং সরবরাহের ধরনের ওপর। আবেদন করার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ফি তালিকা যাচাই করা উচিত।

প্রচলিত ফি তালিকা অনুযায়ী, ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের নিয়মিত সরবরাহের ফি ৪ হাজার ২৫ টাকা, জরুরি সরবরাহে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা এবং অতি জরুরি সরবরাহে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা।

৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নিয়মিত সরবরাহে ৫ হাজার ৭৫০ টাকা, জরুরি সরবরাহে ৮ হাজার ৫০ টাকা এবং অতি জরুরি সরবরাহে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

অন্যদিকে, ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি নিয়মিত সরবরাহে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা, জরুরি সরবরাহে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা এবং অতি জরুরি সরবরাহে ১২ হাজার ৭৫ টাকা।

৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নিয়মিত সরবরাহে ৮ হাজার ৫০ টাকা, জরুরি সরবরাহে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা এবং অতি জরুরি সরবরাহে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা ফি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফি পরিশোধের আগে সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ হার যাচাই করা প্রয়োজন।

কত দিনে পাওয়া যায় ই-পাসপোর্ট

সরবরাহের ধরন অনুযায়ী ই-পাসপোর্ট পেতে সময়ের পার্থক্য রয়েছে। নিয়মিত সরবরাহে সাধারণত ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিন, জরুরি সরবরাহে ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিন এবং অতি জরুরি সরবরাহে ২ কর্মদিবসের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়। তবে আবেদন যাচাই, পুলিশি প্রতিবেদন যেখানে প্রযোজ্য এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে প্রকৃত সময় ভিন্ন হতে পারে।

বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে যা করতে হবে

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি, পরিচয়পত্র, ফি পরিশোধের প্রমাণ এবং আগের পাসপোর্ট থাকলে সেটি।

পাসপোর্ট অফিসে আবেদনকারীর ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া এবং চোখের আইরিস স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী অতিরিক্ত ছবি বা অভিভাবকের পরিচয়সংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদনকারীদের জন্য পরামর্শ

ই-পাসপোর্টের আবেদন নিজে অনলাইনে করা সম্ভব হলেও তথ্য পূরণ ও ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত না রাখা কিংবা ভুল পদ্ধতিতে ফি পরিশোধের কারণে আবেদনপ্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

দালালের মাধ্যমে আবেদন করার পরিবর্তে সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে নিজেই আবেদন করা যায়। কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস বা সরকারি কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া উচিত।

ই-পাসপোর্টের আবেদন, ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সরকারি ওয়েবসাইট epassport.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।