শিরোনাম
বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশেও এলআর ফান্ডের তথ্য দেয়নি সিলেট জেলা প্রশাসন সিলেটে পুকুর দখল-ভরাট বন্ধে কমিটি গঠনের নির্দেশ সিলেট বিভাগে ১৬ জন নতুন সহকারী কমিশনার সিলেটে মন্ত্রী মুক্তাদিরের সফর ঘিরে পাঁচ কর্মসূচি সিলেটে সাব-রেজিস্ট্রার পদে বড় রদবদল: নতুন ৪, বদলি ৩ সিলেটে মাহা-ইমজার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে পুকুর নিয়ে বিরোধে চাচাতো ভাইদের হামলায় যুবক নিহ/ত, আট/ক এক শিল্পবর্জ্যে অস্তিত্বসংকটে সুতাং নদী, বিপন্ন ২৭ হাজার হেক্টর জমির কৃষি সিলেটসহ সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম স্থগিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

https://www.emjanews.com/

19994

national

প্রকাশিত

২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৪৫

জাতীয়

সুনামগঞ্জে বাউলগানে বাধার প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন, পুলিশের বাধা ও আটকের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ধানমন্ডিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। এ সময় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ, দীপককে আটকের সময় নাট্যকর্মী সুমনা ইসলামকেও টানাহেঁচড়া করেন পুলিশ সদস্যরা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউলগানসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে ‘তৌহিদি জনতা’র নামে হামলা ও আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানানোর কথা ছিল সংস্কৃতিকর্মীদের।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেলা সাড়ে তিনটা থেকেই ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনা বাজার এলাকায় শতাধিক পুলিশ সদস্যকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। বিকেল চারটার দিকে কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী সেখানে জড়ো হলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়।

নাট্যকর্মী সুমনা ইসলাম পুলিশের কাছে জানতে চান, তাঁরা সেখানে মানববন্ধন করতে পারবেন কি না। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দীপক শীলের সঙ্গেও পুলিশের কথা হয়। উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বলতে শোনা যায়, ওপর থেকে নির্দেশনা রয়েছে- মানববন্ধনকারীরা যেন কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা স্লোগান না দেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা এ সময় আরও বলেন, কয়েক দিন আগে ওই স্থানে একটি মানববন্ধনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। জবাবে দীপক শীল বলেন, ‘কেন, জয় বাংলা স্লোগান কি নষ্ট হয়ে গেছে নাকি। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ও তো এই স্লোগান দিয়েছি।’

এরপর পুলিশ দীপক শীলের পরিচয় জানতে চায়। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলে।

দীপককে আটকানোর চেষ্টা করেন সুমনা ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, এ সময় পুলিশ তাঁর সঙ্গেও দুর্ব্যবহার ও টানাহেঁচড়া করে। কোনো কারণ ছাড়াই দীপককে আটক করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে দীপকের মুক্তি চাই।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, ‘আমরা তাঁদের উসকানিমূলক স্লোগান ও কথা বলতে নিষেধ করলে তাঁরা পাল্টা প্রশ্ন করেন, জয় বাংলা স্লোগান নষ্ট হয়ে গেছে কি না। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে একজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়েছে।’

পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও দীপক শীলকে আটকের পর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে মানববন্ধনকারীরা সেখানে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের স্লোগানের মধ্যে ছিল, ‘মৌলবাদীদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘সংস্কৃতির ওপর হামলা, ঘুরে দাঁড়াও বাংলা’ এবং ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’।

কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক ফারুক এইচ খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের অবস্থান কর্মসূচিও যদি কেউ সহ্য করতে না পারে, তাহলে আমাদের করার আর কিছু নাই। সারা দেশেই বাউল ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ চলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মানববন্ধনকারীরা ওই এলাকা ত্যাগ করেন।