সাধারণ পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে, ধরা পড়ল শেষ পর্যায়ের কোলন ক্যান্সার
ক্লান্তি ছাড়া ছিল না কোনো উপসর্গ
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৭
ছবি: সংগৃহীত
সামান্য পেটব্যথাকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের ৪০ বছর বয়সী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হেলেন ওয়ার্থিংটন। ভাবতেও পারেননি, এই ব্যথাই তাকে নিয়ে যাবে এক ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি। হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে গিয়ে জানতে পারেন, তিনি কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত। শুধু তাই নয়, তত দিনে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে তার লিভারেও। অথচ ক্লান্তি ছাড়া গুরুতর কোনো শারীরিক উপসর্গই টের পাননি তিনি।
ঘটনাটি গত বছরের ২৭ আগস্ট রাতের। ঘুমাতে যাওয়ার সময় হঠাৎ পেটে অস্বস্তি অনুভব করেন হেলেন। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা মনে করে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু পরদিন সকালে ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেয়ে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।
হাসপাতালে যাওয়ার পরও সামান্য ব্যথার জন্য চিকিৎসকদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন ভেবে অনুতপ্ত হচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা যে তথ্য জানান, তা মুহূর্তেই বদলে দেয় তার জীবন। জানা যায়, হেলেনের কোলন বা বাওয়েল ক্যান্সার হয়েছে এবং রোগটি ইতোমধ্যে লিভার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল, ক্যান্সার এতটা অগ্রসর হওয়ার পরও ক্লান্তি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো লক্ষণ অনুভব করেননি তিনি। রোগ শনাক্ত হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর শুরু হয় কেমোথেরাপি।
তবে হেলেনের ক্যান্সারে রয়েছে 'BRAF V600E' নামের জিনগত মিউটেশন, যা সাধারণত কোলন ক্যান্সারের আরও আক্রমণাত্মক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইতোমধ্যে তিনি ২৭টি কেমোথেরাপি সেশন সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ও কঠিন চিকিৎসার মধ্যেও হাল ছাড়েননি এই শিক্ষক।
১২ বছর বয়সী মেয়ে মলির কথা ভেবেই প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করার শক্তি খুঁজে পান হেলেন। ক্যান্সারের চিকিৎসার পাশাপাশি শরীর ও মনকে সচল রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামও করছেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি সোসাইটি অব অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার অথবা ৭৫ মিনিট তীব্র মাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। উপযুক্ত শারীরিক কার্যক্রম চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলাতে এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
হেলেনের ভাষ্য, ক্যান্সারের চিকিৎসার অনেক কিছুই তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে নিজের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ রয়েছে তার হাতে। আর এই চর্চা তাকে মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
একটি সাধারণ পেটব্যথা যে এত বড় বিপদের সংকেত হতে পারে, হেলেনের অভিজ্ঞতা তারই উদাহরণ। তার লড়াই এখন শুধু রোগের বিরুদ্ধে নয়, মেয়েকে নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখারও।
