ছবি- সংগ্রহ
জাতীয় পার্টির (জাপা) শীর্ষ তিন নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মুজিবুল হক চুন্নু তাঁদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁরা এই সিদ্ধান্তকে ‘বেআইনি ও অগঠনতান্ত্রিক’ বলে দাবি করে জানান, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করেই চেয়ারম্যান জি এম কাদের একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব কথা বলেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দল থেকে আগেই অব্যাহতি পাওয়া নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ, সাবেক কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এবং বেশ কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য।
সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান নয়, মহাসচিবই সভা ডাকতে পারেন। সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে যে সভা ডেকে আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অকার্যকর। আমরা এখনও আমাদের পদে বহাল আছি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে জি এম কাদের কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সেই থেকেই দলে একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের সূচনা হয়েছে।
মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘দলের ২৮ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, অথচ আমি মহাসচিব হয়েও তা জানি না। এটা কোনো গণতান্ত্রিক দলের নিয়ম হতে পারে না। আমরা কাউন্সিলে যাব, সেখানেই ঠিক হবে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।’
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘জি এম কাদের ব্যক্তিস্বার্থে দল পরিচালনা করছেন। একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর চাপে পড়ে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।’
প্রবীণ নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এই দলকে আবার ঐক্যবদ্ধ করে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।’
বক্তারা বলেন, জাপাকে রক্ষা করতে দলের কাউন্সিল জরুরি। সেখানে নেতৃত্ব নির্বাচন হোক এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক এটাই তাঁদের দাবি।
