শিরোনাম
সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী ইমজার নতুন কমিটি: সভাপতি রিপন, সম্পাদক আনিস মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত, জরুরি নির্দেশনা জারি বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন: আলোচনায় সিলেটের তিনজন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-কে সংবর্ধনা সরকারি কর্মকর্তারা ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে সহযোগিতা করেছেন: কাইয়ুম চৌধুরী হাসিমুখে ঈদ করতে পারবেন শিল্প কারখানার শ্রমিকরা : বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে আজ মহাজাগতিক বিস্ময়: আজ সন্ধ্যায় আকাশে বসছে ৬ গ্রহের মেলা ​ সিলেট প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল: সকল শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মিলনমেলা

https://www.emjanews.com/

14074

politics

প্রকাশিত

২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:০১

আপডেট

২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:০৭

রাজনীতি

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন: আলোচনায় সিলেটের তিনজন

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:০১

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা জোরদার হয়েছে। বহুলপ্রত্যাশিত এই আসনগুলোতে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন-তা নিয়ে দলটির নারী নেত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা নেত্রীরা তাদের ত্যাগের রাজনৈতিক স্বীকৃতি প্রত্যাশা করছেন।

যদিও সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে এখনো দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি, তবে ঈদের পর মনোনয়ন কার্যক্রম শুরুর আভাস মিলেছে। এর আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক জীবন, আন্দোলনে ভূমিকা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরছেন। অনেকের দাবি-শুধু পরিচয়ের রাজনীতি নয়, মাঠের বাস্তব অবদানকেই প্রাধান্য দেওয়া হোক।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা-এই তিনটি বিষয়ই মূল্যায়নের মানদণ্ড হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে।

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সাধারণ আসনে যে দল যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। প্রতি ৬টি সাধারণ আসনের বিপরীতে ১টি সংরক্ষিত আসন বরাদ্দের নিয়ম রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পাওয়ায় দলটি সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে বলে জানা গেছে।

এদিকে, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যথাযথ নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত আসবে। তিনি জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন।

এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সিলেট বিভাগে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রিয় নেত্রী ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি হবিগঞ্জের শাম্মী আক্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন।

আলোচনার প্রথমদিকে আছেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা ও সানজিদা ইসলাম তুলি, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আক্তার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন।

এছাড়া কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনকচাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ, প্রয়াত মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের মেয়ে ব্যারিস্টার সালিমা বেগম আরুণি, ড. আব্দুল মঈন খানের মেয়ে মাহরীন খান, বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার নামও আলোচনায় আছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা ও সানজিদা ইসলাম তুলির নাম আলোচনার প্রথম সারিতে রয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনকচাঁপা এবং প্রয়াত শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নামও মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছে।

আরও যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ, রুমানা আহমেদ, নিপুণ রায় চৌধুরী, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, অপর্ণা রায়, বীথিকা বিনতে হুসাইনসহ বিভিন্ন জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেত্রীবৃন্দ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না কিংবা দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন-এমন অনেকেই ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তাদের কেউ কেউ অতীতে আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকেও সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তারা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন এবং নানা মাধ্যমে হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পুরো মেয়াদে রাজপথে সক্রিয় থেকে গ্রেপ্তার ও মামলার শিকার হয়েছেন- এমন নেত্রীদের অনেকেই এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দলের দুর্দিনে মাঠে থাকা নেত্রীদের প্রত্যাশা, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজপথের নেতৃত্ব ও বিগত সময়ের সঠিক ভূমিকা যাচাই-বাছাই করেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন।