https://www.emjanews.com/

8023

sylhet

প্রকাশিত

০৩ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৫৯

আপডেট

০৩ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৪৬

সিলেট

মাধবকুণ্ডে ছড়ায় অপরিকল্পিত দেয়াল নির্মাণে হুমকিতে ১০টি খাসিয়া পরিবার

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৫৯

ছবি: সংগৃহিত।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকায় ছড়ার তীরে বন বিভাগের আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের ফলে বিপরীত তীরের ১০টি খাসিয়া পরিবারের বসতবাড়ি চরম ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছড়ার পাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ছড়ার মাঝ বরাবর দেয়াল নির্মাণ করায় ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বিপরীত তীরের বসতঘরগুলো ছড়ার গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অথচ নির্মাণের পূর্বেই দেয়ালটি মাত্র ৪-৫ ফুট সরিয়ে নিয়ে গেলে তীরবর্তী বসতিগুলো রক্ষা করা যেত।

প্রায় দুই মাস ধরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মৌখিকভাবে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানানোর পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

 জানা গেছে, সিলেট বন বিভাগের আওতাধীন ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সিলেট বন বিভাগে বনায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ মিটার দীর্ঘ ও ১১ ফুট উচ্চতার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ মাধবছড়ার তীরবর্তী আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায়ের পুঞ্জিতে (গ্রাম) ১০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু নির্মাণ প্রকল্পে এই পরিবারের নিরাপত্তা বা ঘরবাড়ি রক্ষার কোনো পরিকল্পনা রাখা হয়নি।

মাধবপুঞ্জির মান্ত্রী (পুঞ্জি প্রধান) ওয়ানবর এলগিরি বলেন,‘বন বিভাগ ছড়ার এক পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রেখেও মাঝ বরাবর দেয়াল তুলছে। এতে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে আমাদের ১০টি পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা অনেকবার বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বলেছি-মাত্র ৪/৫ ফুট সরিয়ে দেয়াল নির্মাণ করলে ঘরবাড়িগুলো রক্ষা পাবে। তারা বলেছে পরে ওই পাশে নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে। কিন্তু তখন যদি ঘর না থাকে, তাহলে সেই প্রকল্প আমাদের কী কাজে আসবে?’

বসতবাড়ি হুমকিতে পড়া পরিবারের মধ্যে রয়েছেন- বিনিং লাপাসাম, কল্পনা সারতি, প্রনতি ইয়াংইয়ুং, জনজলী মারলিয়া, জ্যাতিলা হাজং, এমিলি মুখিম, বেরনিকা খাইন, নিবিং পঃস্নেম, লিটন বুনার্জি ও আইলিন এলগিরি।

এ বিষয়ে মাধবছড়ার সহকারী বন সংরক্ষক রেজাউল ইসলাম মৃধা জানান,‘ছড়ার এক তীরে আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। বিপরীত তীরে খাসিয়া পরিবারের বসতবাড়িগুলোর জন্য ভবিষ্যতে গাইড ওয়াল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হবে।’

 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন,‘এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে দেয়াল নির্মাণের স্থানে পরিবর্তন এনে বিপরীত তীরের বসতবাড়ি রক্ষা করতে  তারা দ্রুত প্রশাসন ও বন বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।