যুক্তরাজ্যের থারক কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী সিলেটের সঞ্জিত দাস
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২২:২৮
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতে আরও একজন বাংলাদেশীর বলিষ্ঠ পদযাত্রা শুরু হয়েছে। এসেক্সের থারক কাউন্সিলের অধীনে গ্রেসের লিটল থারক রেক্টরি ওয়ার্ডে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন সিলেটের কৃতি সন্তান সঞ্জিত দাস। প্রভাবশালী লেবার পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সঞ্জিত দাসের শেকড় সিলেট নগরীর তোপখানা এলাকায়। তাঁর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে সিলেটে। তিনি সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ ব্যাচে এসএসসি সম্পন্ন করেন। সিলেট এম. সি. কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) থেকে গণিত শাস্ত্রে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি শাবির ৭ম ব্যাচের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের এসেক্সে বসবাসরত সঞ্জিত দাস সেখানে একজন উদীয়মান সমাজকর্মী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। স্থানীয় কমিউনিটির উন্নয়নে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা তাঁকে লেবার পার্টির মনোনয়ন পেতে সহায়তা করেছে। আগামী ৭ই মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তিনি লিটল থারক ওয়ার্ডের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুত।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি এক্টিভিস্ট রুহুল আমিন চৌধুরী জানান, 'সঞ্জিত দীর্ঘদিন ধরে এই ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের সুখে-দুখে পাশে আছেন। কমিউনিটির জন্য তাঁর আন্তরিকতা প্রশ্নাতীত। আমরা আশাবাদী, এলাকার মানুষ তাঁর এই সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন করবেন এবং তাঁকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।'
সঞ্জিত দাসের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতারা। স্থানীয় কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মুরাদ আহমদ বলেন, সঞ্জিত একজন পরিশ্রমী এবং প্রতিশ্রুতিশীল ব্যক্তি, যার বিজয় কমিউনিটির কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করবে। সঞ্জিত দাসের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশী ভোটার ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কমিউনিটি সদস্য শওকত বখত।
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কাউন্সিলররা সরাসরি কমিউনিটির উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তদারকি করেন। সঞ্জিত দাসের মতো একজন শিক্ষিত ও দক্ষ ব্যক্তিত্ব এই পদে বিজয়ী হলে তা প্রবাসে বাংলাদেশীদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি স্থানীয় নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন ইংল্যান্ডের প্রথিতযশা সাংবাদিক আ স ম মাসুম।
স্থানীয় কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আহমেদ কবির বলেন, পেশাগত দক্ষতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে সঞ্জিত দাস লিটল থারক ওয়ার্ডে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এখন কেবল ৭ই মে ব্যালটের মাধ্যমে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা।

সিলেটের প্রতিষ্ঠিত স্থপতি ও সঞ্জিত দাশের সহপাঠি রাজন দাশ বলেন, ‘সঞ্জিত দাশ আমার স্কুল ও কলেজ জীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সহমর্মিতার আবেগ আমি দেখেছি। কোথাও কিছু ঘটলে সেখানে সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হয়ে ঘটনার অংশ হয়ে করণীয় দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়ে নেওয়া, অন্যের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া; এগুলো সঞ্জিতের সহজাত বৈশিষ্ট্য। ক্ষেত্রবিশেষে বিড়ম্বনা বা ক্ষতির তোয়াক্কা না করে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সত্যিই সাহসের ব্যাপার। সে যখন এমসি কলেজে পড়ত, তখন যেমন বিভিন্ন এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিতে জড়িত ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে কাজ করেছে। সে দীর্ঘদিন লন্ডনে প্রবাসে আছে এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে। এখন সে ইংল্যান্ডের মূলধারার রাজনীতিতে পদক্ষেপ রাখতে যাচ্ছে, আরও বৃহত্তর ক্ষেত্রে কাজের অংশ হিসেবে। বিলাতের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসেক্স কাউন্টির থারোক কাউন্সিলের লিটল থারোক ওয়ার্ডে লেবার পার্টি কর্তৃক মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছে। কেবল প্রবাসী বাঙালি নয়, ব্রিটিশ কমিউনিটিতেও তার অবস্থান ভালো। আমি তার বিজয় নিয়ে আশাবাদী।’
সিলেটের খ্যাতনামা চিকিৎসক, রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ও সঞ্জিতের সহপাঠী ডা. নাজিম অপু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, ‘সঞ্জিত একজন সততা, দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনগণের প্রতি অকৃত্রিম অঙ্গীকারবদ্ধ মানুষ। সমাজসেবায় তাঁর উৎসর্গ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি সততা, শক্তি এবং সহমর্মিতার সাথে এ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন। নেতৃত্ব মানে কেবল জয়লাভ নয; নেতৃত্ব মানে সেবা করা। আর সঞ্জিত ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন যে, তিনি হৃদয় ও সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে সেবা করার জন্য প্রস্তুত।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন বলেন, ‘বাল্যবন্ধু সঞ্জিত দাস Little Thurrock Rectory নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী লেবার পার্টি থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। শৈশব থেকেই আমি সঞ্জিতকে খুব কাছ থেকে দেখেছি এবং ছাত্রজীবন থেকেই তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সব সময় সক্রিয় ছিলেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করার এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার যে স্পৃহা তার মধ্যে রয়েছে, আজকের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ তারই এক স্বাভাবিক প্রতিফলন বলে আমি মনে করি।।
আগামী ৭ মে-র নির্বাচনে তার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি। আমার বিশ্বাস, নির্বাচিত হলে তার মেধা ও অভিজ্ঞতা থাররকবাসীর জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’
এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের সাবেক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ সিলেট নগরীর সঞ্জিতের বড় ভাই, সহপাঠী ও ছোট ভাইবোনেরা সঞ্জিতের হয়ে কমিউনিটিতে ক্যাম্পেইন করছেন।
