https://www.emjanews.com/

8058

sylhet

প্রকাশিত

০৪ আগস্ট ২০২৫ ১৩:১০

আপডেট

০৪ আগস্ট ২০২৫ ১৭:০৯

সিলেট

বিয়ানীবাজারের মুরাদগঞ্জ-গোডাউনবাজার সড়কের বেহাল দশা

প্রায় এক দশক ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ ১৩:১০

ছবি: সংগৃহিত।

সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরের নিদনপুর এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত মুরাদগঞ্জ-গোডাউনবাজার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলার শিকার। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্তের। প্রায় এক দশক ধরে সংস্কার না হওয়ায় এখন পুরো সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এই সড়ক ব্যবহার করেন পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড, মুল্লাপুর ও লাউতা ইউনিয়নের কয়েক হাজার বাসিন্দা। সরেজমিনে দেখা গেছে, মুরাদগঞ্জ মসজিদের নিচের অংশ থেকে শুরু করে মুল্লাপুর ইউনিয়ন অফিস, গোডাউনবাজার, কালিবাড়ি বাজার ও বারইগ্রাম বাজার পর্যন্ত রাস্তার কোথাও ৫ ফুট টানা ভালো কোনো অংশ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন মুন্না বলেন, ‘বছরের পর বছর এই সড়কের এমন অবস্থায় চলাচল করছি। জনপ্রতিনিধিরা আন্তরিক হলে অনেক আগেই এটি সংস্কার করা যেত।’
টমটম চালক ফারুক জানান, ‘আমি ৯ মাস ধরে এই সড়কে টমটম চালাই। রাস্তার এমন অবস্থা দেখে আসছি। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়, রিকশা চলতে পারে না।’

সরকারি বিদ্যালয়ের ছাত্র তাহসান সারিম বলেন, ‘সড়কের পরিস্থিতি সবসময়ই খারাপ। ১ থেকে ৩ ফুট পরপর ছোট-বড় গর্ত। খোলা ড্রেন থাকায় বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে চলাচল একেবারেই দুরূহ হয়ে পড়ে।’
সিএনজি চালক রাহিম আহমেদ জানান, ‘ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।’

এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে পাতন-আব্দুল্লাহপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুল্লাপুর ইউনিয়ন অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এটি দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিকল্প বাইপাস সড়ক, যেখানে প্রতিদিন ট্রাক, ট্রাক্টর, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও প্রাইভেট গাড়ি চলাচল করে।

লোকজন জানাচ্ছেন, ভাঙা রাস্তার কারণে যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে পৌঁছাতে পারছে না। অতিরিক্ত ভাড়ায়ও রিকশা, সিএনজি মেলে না।
মুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টিতে গর্তে হাঁটু পানি জমে যায়। বাধ্য হয়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়। মাঝে মাঝে হাঁটাও দুষ্কর হয়ে পড়ে।’

বিয়ানীবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রহমান আফজল বলেন, ‘সড়কটির সংস্কার দায়িত্ব উপজেলা এলজিইডির, কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশলী দীপক কুমার দাস জানান, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই টেন্ডার আহ্বান করা হবে। আশা করছি, এই দুর্ভোগ বেশি দিন থাকবে না।’