ছবি: সংগৃহীত।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বদলির পর পাথর কোয়ারি-সমৃদ্ধ উপজেলার প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র বদলির আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের কর্মকর্তা থেকে সাধারণ মানুষ-সবার মুখে একটাই প্রশ্ন: এর পর কার পালা?
সাদাপাথর ও জাফলংয়ের পাথর লুটের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানে যায় সরকার। রবিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে পুলিশ ও বিজিবি পর্যন্ত সবাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ লুটপাটে জড়িত।
এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সরেজমিনে সাদাপাথর এলাকা তদন্ত করে এসেছে। শিগগিরই তারা জাফলং, রাংপানি ও লোভাছড়া কোয়ারিও পরিদর্শন করবে বলে নির্দেশনা রয়েছে। দুদকের এ তৎপরতা প্রশাসনের ভেতরে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় সোমবার জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আলোচিত সাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম।
এর অল্প সময় পরই বদলি হন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহার। তাকে ফেঞ্চুগঞ্জে পাঠানো হয় এবং সেখানে থাকা ইউএনও মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে কোম্পানীগঞ্জে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সাদাপাথর লুট ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উযায়ের আল মাহমুদ আদনানকেও শাস্তিমূলক বদলির সুপারিশ করা হয়েছে।
এবার নজর গেছে গোয়াইনঘাটে। জাফলং কোয়ারির পাথর লুট নিয়ে দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়ার পর সেখানকার ইউএনও রতন কুমার অধিকারী ও ওসি সরকার মোহাম্মদ তোফায়েল আহমদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। সূত্র বলছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে জৈন্তাপুরের রাংপানি এলাকায় অবাধে চলছে পাথর লুট। গত কয়েক দিনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউএনও জর্জ মিত্র চাকমা ও ওসি আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামানের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনসহ গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে।
কানাইঘাটের লোভাছড়ায়ও একই চিত্র। হাইকোর্টের মামলার আলামত হিসেবে জব্দ ৬১ লাখ ঘনফুট পাথর পাচারের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এতে ইউএনও তানিয়া আক্তার ও ওসি আব্দুল আউয়ালের সম্পৃক্ততার অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে তাদের অবস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে সারওয়ার আলমকে নিয়োগকে সরকার বিশেষ কৌশল হিসেবে দেখছে। সিলেট বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পর্যটন খাত রক্ষায় সরকার এবার কঠোর। সিলেটের ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন পুনরুদ্ধারে সারওয়ার আলম নিজের পছন্দমতো টিম গঠন করবেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সারওয়ার আলমের ওপর সিলেটের মানুষের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। তিনি দেশের সেরা কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে খ্যাত। তাই পর্যটন ধ্বংসে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত কারও জন্য প্রশাসনে জায়গা থাকার কথা নয়। শিগগিরই প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তাদের চেয়ার ছাড়তে হবে বলেই সিলেটবাসীর বিশ্বাস।
