ছবি: সংগৃহিত।
সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জে বলু মহালের ইজারা নিয়ে ইজারাভুক্ত এলাকার বাইরে থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বালু খেকো চক্র। আজ (১৯ আগষ্ট) সিলেটের জেলা প্রশাসক ও কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ঢালারপাড় গ্রামের ইদ্রিস আলী।
২নং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের ঢালারপাড়, চকবাজার, দক্ষিণ ঢালারপাড় ও মোস্তফানগর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দারা জানান, তাদের গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ঢালা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি লিস্টার মেশিন ও ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো ভয়াবহ নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, ঢালারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, কমিউনিটি ক্লিনিক, বাজার, কবরস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ঢালারপাড় বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই নদীর পাড় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে এবং ক্রমেই গ্রামাঞ্চল নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
গ্রামবাসীর দাবি, সাদা পাথর লুটপাট বন্ধ হওয়ার পর এখন বালু খেকোরা মরিয়া হয়ে ইজারার বাইরে থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছে। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, বাধা দিতে গেলে বালু ব্যবসায়ীরা প্রাণনাশের হুমকি দেয়, মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে হয়রানি করার চেষ্টা চালায়।
এ প্রসঙ্গে জানা যায়, গত ২১ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক/জেলা কালেক্টর সিলেট, কালাসাদক মৌজার দাগ নং-৪৯৩, ১২১৩, ২০৩২, ২১২৬, ২১৫৭ এবং তৈয়মুর নগর মৌজার ৩১৯ নং দাগে মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজকে এক বছরের জন্য ইজারা প্রদান করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ—বালু উত্তোলনকারীরা ইজারার সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী হাফিজ আব্দুল্লাহ জানান, তিনি ইজারাভুক্ত এলাকা থেকেই বালু উত্তোলন করছেন। গ্রামের মানুষ যে অভিযোগ করছেন, তা ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে তদন্তে সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি দাবি করেন।
