শিরোনাম
ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত সিলেটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু মঙ্গলবার সিলেটে হৃদয় হরিজন হত্যা: ১২ ঘণ্টা পরও গ্রেপ্তার নেই সিলেটের গোয়াইনঘাটে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় একমাত্র আসামীর মৃত্যুদণ্ড সিলেটসহ সারাদেশের নির্বাচন নিয়ে ঘোষণা আজ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি ভারতে বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক: যাচ্ছেন না সালাহউদ্দিন আহমদ মণিপুরে সহিংসতা: ৪৮ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু, মোদি-খেমচাঁদ বৈঠক সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ পরিবর্তনের আশ্বাস রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

https://www.emjanews.com/

8650

art-literature

প্রকাশিত

১৯ আগস্ট ২০২৫ ১৯:২৮

শিল্প সাহিত্য

সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের অনন্য প্রতিভা জহির রায়হান

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ ১৯:২৮

ছবি: সংগৃহিত।

বাংলাদেশের সাহিত্য ও চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে জহির রায়হান এক বিরল প্রতিভা। তিনি শুধু চলচ্চিত্র নির্মাতা নন, ছিলেন ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও সাংবাদিকও।

আজ (১৯ আগস্ট) তার জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক বহুমাত্রিক এই সৃষ্টিশীল মানুষের জীবন ও কর্মকে।

১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনীর মিজানগরে জন্মগ্রহণ করেন জহির রায়হান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে পড়াশোনা করলেও অল্প বয়স থেকেই রাজনীতি, সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন।

লেখক হিসেবে তিনি খ্যাতি পান ‘বরফ গলা নদী’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘হাজার বছর ধরে’র মতো উপন্যাসের মাধ্যমে। এর মধ্যে ‘হাজার বছর ধরে’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ১৯৬৪ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও রেখেছেন অনন্য স্বাক্ষর। সহকারী পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করে খুব অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন দেশের আধুনিক ও সাহসী নির্মাতাদের একজন।

কখনো আসেনি (১৯৬১); কাচের দেয়াল (১৯৬৩); বেহুলা (১৯৬৬); জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০)।

এর মধ্যে ’জীবন থেকে নেয়া’ ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের দলিল।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি নির্মাণ করেন প্রামাণ্যচিত্র স্টপ জেনোসাইড, যা বাংলাদেশের গণহত্যার খবর বিশ্ব দরবারে তুলে ধরে। পরবর্তীতে তিনি লিবারেশন ওয়ার, ইনোসেন্ট মিলিয়ন্সসহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আরও কয়েকটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন।

কেবল সাহিত্য বা চলচ্চিত্র নয়, সমাজ ও রাজনীতির প্রতিও ছিল তার দায়বদ্ধতা। স্বাধীনতার পরপরই এই শিল্পীর রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়া আজও এক ট্র্যাজেডি হয়ে আছে।

তবুও তার সৃষ্টিকর্ম আজও জীবন্ত, আজও অনুপ্রেরণার উৎস। জহির রায়হান দেখিয়েছিলেন- সাহিত্য ও সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ারও হতে পারে।