https://www.emjanews.com/

8679

sylhet

প্রকাশিত

২০ আগস্ট ২০২৫ ১৪:১৮

আপডেট

২০ আগস্ট ২০২৫ ১৪:২২

সিলেট

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের যানজট: দুর্গতির কারণ ২০-২২ কিলোমিটার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ ১৪:১৮

ছবি: ইমজা নিউজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভৈরব থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের মাত্র ২০-২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের লাগছে ছয় থেকে আট ঘণ্টা। চলমান ছয় লেন ও চার লেন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের হ-য-ব-র-ল অবস্থা। সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন যানজটের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ।

মহাসড়কের যানজটে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি বিপাকে পড়ছে শিল্প কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। বিশেষ করে সিলেট, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পচনশীল পণ্য পরিবহনে তৈরি হয়েছে জটিলতা। বাধ্য হয়ে অনেকে বিকল্প হিসেবে ট্রেনে যাতায়াত করছেন। কিন্তু ট্রেনের সংখ্যা ও আসনসংকট থাকায় অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে পথ পাড়ি দিচ্ছেন।

যাত্রী সাইফুর রহমান বলেন, “ঢাকা থেকে রাত ১২টায় রওনা দিয়ে নরসিংদীর বারৈচায় পৌঁছাতেই তিন ঘণ্টা লেগেছে। ভৈরব ব্রিজে আটকে ছিলাম সকাল সাতটা পর্যন্ত। এরপর সরাইল বিশ্বরোডে যেতে আরও চার ঘণ্টা লেগেছে।” নিয়মিত ব্যবসার কাজে সিলেট থেকে ঢাকা যাতায়াতকারী ইকরামুল জানান, “মাধবপুর থেকে ভৈরব যেতে লাগছে চার ঘণ্টার বেশি। ঢাকায় পৌঁছাতে কখনো কখনো সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়।”

স্থানীয়রা জানান, আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও সরাইল বিশ্বরোড মোড় এই যানজটের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ছোট যানবাহনের অবাধ চলাচল পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রাস্তা ভাঙাচুরার কারণে একসঙ্গে দুই দিকের গাড়ি চলতে পারে না। প্রতিদিনই কয়েকটি গাড়ি রেকার করতে হয়।”

২০২০ সালে ভারতীয় ঋণ সহায়তায় শুরু হয় আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার চার লেন প্রকল্প। পরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন করার সিদ্ধান্তে আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড অংশের ডিজাইনে পরিবর্তন আসে। এতে খরচ বাড়লেও অনুমোদন মেলেনি। ফলে কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শামীম আহমেদ বলেন, “খারাপ অংশগুলো বারবার মেরামত করলেও ভারী যানবাহনে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে এক-দেড় মাসের মধ্যে সরাইল অংশের কাজ শেষ করার আশা করছি।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রকল্পের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করছে। জেলা প্রশাসক দিদারুল আলম বলেন, “স্থানীয়ভাবে ইট ফেলে রাস্তা সচল রাখার চেষ্টা করেছি। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন জরুরি।”

যাত্রী ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রকল্পের জটিলতা কাটিয়ে কাজ শেষ হলে এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।