ছবি: সংগৃহিত।
মোবাইল ফোনের দাম কমিয়ে আনতে দেশে উৎপাদন ও আমদানির উভয় ক্ষেত্রেই কর ছাড় দিতে রাজি রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এমনটাই জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পরবর্তী সরকারের আর্থ-সামাজিক অগ্রাধিকারসমূহ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশেই ট্রেড থেকে এত ট্যাক্স নেয় না, যতটা আমরা ট্যাক্স ইম্পোজ করি। এটা কিন্তু শুধুই ট্যাক্সের জন্য করা হয় না।’
তিনি জানান, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে করের হার বেশি রাখা হয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজ সকালেও মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারাররা দলবেঁধে আমার কাছে এসেছেন। তারা বলেছেন, আমদানিতে ট্যাক্স কমালে তাদের বিনিয়োগের কী হবে?’
আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আগামীকাল (১৬ ডিসেম্বর) থেকে মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন ব্যবস্থা- এনইআইআর কার্যকর হচ্ছে। এ কারণে সরকার বিষয়টি কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে ‘
তিনি আরও বলেন, ‘এনবিআর থেকে আমরা যেটা বুঝি, তা হলো- উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে এবং ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে বাংলাদেশে মোবাইল ও স্মার্টফোনের দাম কমানো। এ জন্য প্রয়োজন হলে আমরা উৎপাদন ও আমদানি- দুই জায়গাতেই কর ছাড় দিতে রাজি।’
গ্রে মার্কেট প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমানে বেশির ভাগ উচ্চমূল্যের মোবাইল ফোন গ্রে মার্কেটের মাধ্যমে দেশে আসে, ফলে সরকার প্রকৃত অর্থে রাজস্ব পায় না।’
‘এনইআইআর বাস্তবায়নের মাধ্যমে যদি এসব ফোনকে ফরমাল চ্যানেলে আনা যায়, তাহলে রাজস্ব ছাড় দিলেও সামগ্রিকভাবে রাজস্ব বাড়বে,’ বলেন তিনি।
তিনি জানান, স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে অনেক সময় উচ্চ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়। তবে ভোক্তা স্বার্থ বিবেচনায় সরকার এ শুল্ক কমানোর দিকেও যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) থেকে দেশে কার্যকর হচ্ছে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বা এনইআইআর ব্যবস্থা। তবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা মোবাইল ফোনগুলো আগামী ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে। এরপর কোনো অবৈধ ফোন আর নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে না।
