শিরোনাম
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল মালয়েশিয়ায় লরি দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নি হ ত, একজন গুরুতর আ হ ত শিশু নিবাসগুলো সরকারি সম্পদ তৈরির কারখানা: জেলা প্রশাসক জকিগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু ‘এখন সকাল-বিকাল দল থেকে ফোন আসে মন্ত্রীত্ব দিবে, আসনটি ছেড়ে দেবার জন্য’-রুমিন ফারহানা  চলতি মাসেই আংশিক নতুন পে-স্কেল চালুর আভাস চট্টগ্রাম শহরে ৩৩০ ‘দু/ষ্কৃতকারীর’ অবস্থান ও প্রবেশ নি ষি দ্ধ টাঙ্গুয়ার হাওরসহ জলাভূমির প্রকৃতি রক্ষায় নতুন পদক্ষেপ নিল সরকার ইরানের প্রশংসায় ট্রাম্প ফাঁকা ৪৭ আসন নিয়ে জামায়াতের জোটে নয়া আলোচনার সূচনা

https://www.emjanews.com/

12596

politics

প্রকাশিত

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৪০

আপডেট

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫১

রাজনীতি

মার্কার জন্য দলবিলুপ্তি ও দলবদল

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৪০

ছবি: সংগৃহীত

গত অক্টোবরে সরকার নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোট দিতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীকে- এমন ধারাসহ গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে (আরপিও) সংশোধনী আনার পর বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন পথ চলা কিছু ছোট দলগুলো সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে।

বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (বিএলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম দলের কার্যক্রম বন্ধ করে ৮ ডিসেম্বর বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তাকে লক্ষ্মীপুর- ১ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২৪ ডিসেম্বর এলডিপি (অলি) এর মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ পদত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।

এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং কিশোরগঞ্জের একটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পান। এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২, এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হবেন।

গণমাধ্যমকে ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, বিএনপির প্রার্থী হওয়া তার ‘রাজনৈতিক কৌশল’। বিএনপির নেতাদের মতে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের সময় ভোটের অনুপাতে সুবিধা পাওয়া- এই দুটি কারণেই জোটবদ্ধ বা সমমনা দলের নেতাদের সরাসরি বিএনপিতে এনে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। গণ অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি দৃষ্টিকটু হলেও নির্বাচনে জয়ী হয়ে তরুণদের সংসদে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও জানান, নতুন রাজনৈতিক দলগুলো এখনো নিজ প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হওয়ার মতো জনভিত্তি তৈরি করতে পারেনি। তাই কিছু কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে নেতা–কর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

দল ছেড়ে বা দল বিলুপ্ত করে বিএনপির মতো বড় দলে মিশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার চেষ্টাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন। কেউ এটিকে ‘মার্কার জন্য বড় দলের কাছে ছোটো দলের আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, ‘ক্ষমতার ভাগ নিশ্চিত করতেই এমপি হতে চাইছেন ছোটো দলের নেতারা’।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ছোটো দলগুলো নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে নিজেদের ওপর আস্থা রাখে না। তারা জানেন যে নিজেরা দলীয়ভাবে জিততে পারবেন না। সেজন্যই দল বিলুপ্ত করে বা দল ছেড়ে বিএনপিতে যাচ্ছেন। রাজনীতি করতে গেলে সবাই ক্ষমতার ভাগ চায়। সংসদে ঢুকলেই থাকে অর্থ, বিত্ত ও প্রতিপত্তির হাতছানি। আবার এই নির্বাচনটায় সুযোগ সামনে না থাকলেও এই দৌড়ঝাঁপ চলছে। এ কারণেই নীতি ও আদর্শহীনতার এ চর্চা দেখা যাচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশ্লেষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, ‘মনোনয়ন ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যা ঘটছে তা বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হোঁচট খাওয়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ছোটো দলগুলো মার্কার কাছে আত্মসমর্পণ করছে। তবে এই পরিস্থিতির পেছনে নির্বাচন কমিশনের একটি ভ্রান্ত নীতিও দায়ী। যদি নিজের দল বা জোটের প্রধান দলের প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ আগের মতো রাখা হতো, তাহলে এমন দৃষ্টিকটু চর্চা দেখা যেত না। বাংলাদেশে একজন এমপি শুধু আইন প্রণয়নে নয়, এলাকার নিয়ন্ত্রক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ-এই কারণে জয়ের জন্য মার্কা এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দল ছেড়ে বড় দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এখন ছোটো দলের নেতাদের জন্য সবচেয়ে নিশ্চিত পথ এমপি হওয়া এবং সংসদে প্রবেশ করার।