শিরোনাম
সিলেটে হঠাৎ চিরুনি অভিযানে পুলিশ: ৪ ঘন্টায় আ/টক ১১০ জন আবুল হোসেন হত্যা মামলা: আরও দুই আসামি গ্রেফতার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটসহ আট জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা রপ্তানি বাড়াতে চামড়া শিল্পে ২৩ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী ৪,৮০০ ‘অবৈধ অভিবাসীকে’ বাংলাদেশে ফেরত, হোল্ডিং সেন্টারে আরও ৮৩৬ জন: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী  ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, শিশুসহ নিহ.ত ৪, আহ.ত অন্তত ৪০ সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সিলেটজুড়ে ব্যাপক অভিযানে আ/টক ১৭১: প্রায় ২শ গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে দুই চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সংঘ.র্ষ, ওসিসহ আহ.ত অর্ধশতাধিক রাত ১০ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের

https://www.emjanews.com/

12761

opinion

প্রকাশিত

০৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:৫৭

আপডেট

০৩ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:৫৮

মতামত

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বৃক্ষনিধন: থামছে না গাছচোর চক্র, প্রশ্নের মুখে বন সুরক্ষা

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:৫৭

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান শুধু একটি বনাঞ্চল নয়, এটি রঘুনন্দন হিলস বা রিজার্ভ ফরেস্টের প্রাণকেন্দ্র। ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা এই বনভূমি প্রাকৃতিক সবুজে ঘেরা, যেখানে সেগুন, কড়ই, চিকরাশি, আগর, মেহগনি ও নানা মূল্যবান ঔষধি গাছের সমাহার রয়েছে। বাংলাদেশ বন বিভাগের বিভিন্ন সময়ের রিপ্লান্টেশন প্রকল্পের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই বন আজ অবৈধ বৃক্ষনিধনের বড় ঝুঁকিতে পড়েছে।

সারা দেশে ৫ জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরপরই সাতছড়ি ও চন্ডিছড়া চা–বাগান সীমানা এলাকা থেকে একটি সংরক্ষিত সেগুন গাছ চুরি করে নিয়ে যায় গাছচোর চক্র। বিষয়টি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট, কারণ পুরোনো মহাসড়কের পাশেই গাছটির গুঁড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সাতছড়ি ফরেস্ট রেঞ্জ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

কর্তব্যে অবহেলা ও সম্ভাব্য যোগসাজশের অভিযোগে একজন বন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও মূল অভিযুক্ত গাছচোর চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের সদস্যরা রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে জড়িত এবং প্রভাবশালীদের মদদপুষ্ট। এর আগেও রেমা-কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনে অবৈধ গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল।

পরবর্তীতে সাতছড়ি ফরেস্ট রেঞ্জে প্রশাসনিক রদবদল হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। আবারও সংরক্ষিত সেগুন গাছ চুরির ঘটনা ঘটে। কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটি কিছুটা তৎপরতা দেখালেও গাছ চুরি হয়ে যাওয়ার পর তদন্ত ও চিৎকার-চেঁচামেচি ছাড়া কার্যকর কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

এতে প্রশ্ন উঠেছে- প্রশাসন কি সত্যিই এতটাই নিরুপায়, না-কি গাছচোর চক্রের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে আইনের হাত সেখানে পৌঁছাতে পারছে না?

স্থানীয়দের মতে, চোর চক্রের আধিপত্য ও ভয় এতটাই প্রবল যে বন রক্ষায় নিয়োজিত অনেকেই নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

বন বিভাগের কিছু কঠোর পদক্ষেপের কারণে গাছচোর চক্র সাময়িকভাবে পিছপা হলেও তারা এখনো সুযোগের সন্ধানে রয়েছে। কখন বন ফাঁকা হবে, কখন নজরদারি দুর্বল হবে- এই অপেক্ষাতেই রয়েছে তারা। লক্ষ্য একটাই, মূল্যবান গাছ কেটে দ্রুত অর্থ উপার্জন।

সাতছড়ির মতো সংরক্ষিত বন ও বনজ সম্পদ রক্ষায় শুধু বন বিভাগের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়- এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল। রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তি, সুশীল সমাজ, সাধারণ জনগণ, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া অবৈধ বৃক্ষনিধন ঠেকানো সম্ভব নয়।

সচেতন নাগরিকদের মতে, ক্ষমতা বা ক্ষমতার হাতছানি দেখলেই যারা বনের ওপর লোলুপ দৃষ্টি দেয়, তাদের চিহ্নিত করে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ্যে পরিচয় তুলে ধরা উচিত। এতে অন্তত সামাজিক লজ্জা ও চাপ তৈরি হবে, যা বন রক্ষায় কিছুটা হলেও সহায়ক হতে পারে।

সবুজ অরণ্য রক্ষা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অপরিহার্য- এ উপলব্ধি থেকেই সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।