https://www.emjanews.com/

12882

surplus

প্রকাশিত

০৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১১:১৩

আপডেট

০৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১১:২০

অন্যান্য

অ বৈ ধ পথে ইউরোপ প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১১:১৩

২০২৫ সালে অনিয়মিত পথে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্স। সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক অনুসন্ধান ও পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউএনএইচসিআর ও ফ্রন্টেক্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া জাতীয়তার তালিকায় বাংলাদেশিরা শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের পর মিসরীয় ও আফগান নাগরিকদের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্রন্টেক্স জানায়, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্তে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করা হলেও বাংলাদেশিদের ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যানেও দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরীয় বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা অন্যতম প্রধান জাতীয়তা হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও মিসর ও আফগানিস্তানের নাগরিকদের নাম রয়েছে।

ফ্রন্টেক্স এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া জাতীয়তার মধ্যে বাংলাদেশিরা প্রথম স্থানে রয়েছে। মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হলেও এ প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্যে বলা হয়েছে, ইউরোপে পৌঁছাতে বাংলাদেশিরা মূলত সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুট ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ইতালির উপকূল ও গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে পৌঁছানোর ঘটনা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফ্রন্টেক্সের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়াভিত্তিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই বাংলাদেশিরা এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করছেন।

ফ্রন্টেক্স আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের ইউরোপমুখী অভিবাসনের পেছনে অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট এবং বিদেশে বেশি আয়ের প্রত্যাশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মানবপাচার চক্রগুলো এসব বাস্তবতার সুযোগ নিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশিদের অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রায় উদ্বুদ্ধ করছে।

সংস্থার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানো শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর মধ্যে রয়েছেন। তবে ২০২৫ সালে এসে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তথ্যগুলোতে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশিদের পাশাপাশি মিসরীয় ও আফগান নাগরিকরাও ইউরোপে অনিয়মিতভাবে পৌঁছানোদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছেন। মিসরীয়রা মূলত ইতালি ও গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে পৌঁছাচ্ছেন, আর আফগান নাগরিকরা বিভিন্ন স্থল ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশ করছেন।

সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় সীমান্তে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কঠোর করা হলেও বাংলাদেশি অভিবাসনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেই মনে করছে ফ্রন্টেক্স। ইনফোমাইগ্রেন্টস।