লিবিয়ায় এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সিলেটে একজনকে আটক করা হয়েছে। র্যাব জানায়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছায়া তদন্ত চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
আটক ব্যক্তি হলেন সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানার খশির গ্রামের শাহা আলমের ছেলে মো. ছাদেক আহমেদ (৩০)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম সুমন মিয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন চর কিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রায় আট বছর আগে লিবিয়ায় যান এবং সেখানে অবস্থান করে আসছিলেন। প্রবাসে থাকার সময় আবু বক্কর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। প্রায় তিন মাস আগে সুমন মিয়ার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের জন্য তিনি আবু বক্করের কাছে পাসপোর্ট দেন।
গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর সুমন মিয়া প্রবাস থেকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, আবু বক্করসহ অজ্ঞাত তিন-চারজন ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে টাকা দাবি করছে এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এরপর বিভিন্ন সময়ে ভিকটিমের দেওয়া তিনটি নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে মোট ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাঠানোর পর থেকে পরিবারের সঙ্গে সুমন মিয়ার আর যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি একটি নম্বর থেকে ভিকটিমের ভাই রিয়াদ হোসেনের মোবাইলে ফোন করে আরও তিন থেকে চার লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে আবু বক্করের মাধ্যমে সুমন মিয়াকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে এসএমপি’র জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিএসসি, সিলেটের একটি দল ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানাধীন বৈরাগীবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে লিবিয়া প্রবাসী সুমন মিয়াকে অপহরণ করে আটক রেখে মুক্তিপণ দাবি ও গ্রহণের অভিযোগে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত একজনকে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
