একটি দল বেহেশতের টিকিট বিক্রির নামে ভোটের আগেই ঠকাচ্ছে : তারেক রহমান
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫:১২
ছবি- বিএনপি মিডিয়া সেল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেটে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বেহেশত, দোজখ, পৃথিবী কিংবা কাবার মালিক আল্লাহ; এগুলোর কোনোটি দেওয়ার ক্ষমতা মানুষের নেই। অথচ নির্বাচনের আগেই একটি রাজনৈতিক দল টিকিট দেওয়ার কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে—এটি শিরিকের দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল এবং ভোটের আগেই মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা।
তিনি বলেছেন, দোজখের, বেহেশতের, পৃথিবীর, কাবার মালিক আল্লাহ। যার মালিক আল্লাহ, সেটা অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। অথচ নির্বাচনের আগেই একটি দল টিকিট দেওয়ার কথা বলছে—যার মালিক মানুষ নয়। সব কিছুর মালিকানা আল্লাহর, অথচ তারা শিরিক করছে। আগেই আপনাদের ঠকাচ্ছে—নির্বাচনের পরে কীভাবে ঠকাবে, একবার ভাবুন। তারা শুধু মানুষকে ঠকাচ্ছেই না, মুসলমানদের শিরিকের দিকেও ঠেলে দিচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় এ মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
সমাবেশে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিতদের কাছে হজ বা ওমরায় যাওয়ার বিষয়ে জানতে চান এবং জনতার মধ্য থেকে একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে মঞ্চে ডেকে এনে প্রশ্ন করেন—বেহেশত, দোজখ ও পৃথিবীর মালিক কে। জবাবে তিনি বলেন, আল্লাহ। এ প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, যার মালিক আল্লাহ, তা অন্য কেউ দেওয়ার কথা বলতে পারে না; তবু একটি দল নির্বাচনের আগেই টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এতে মানুষ শুধু প্রতারিতই হচ্ছে না, মুসলমানদের শিরিকের দিকেও ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বহু মানুষের প্রাণের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। তবে দেশ ও দেশের বাইরে বসে একটি কুচক্রী মহল নতুন করে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যা ঘটেছে, সেটিকে ভোট ডাকাতির পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমানের ভাষ্য, অতীতে যারা ভোট ডাকাতি করেছে, তারা আবারও একই ধরনের তৎপরতায় নেমেছে। ইলিয়াস, জুনায়েদ, দিনারসহ অসংখ্য মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে সিলেট শহরে ১৩ জনের আত্মদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ত্যাগের বিপরীতে যে অধিকার আদায়ের পথে দেশ এগিয়েছে, তার বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র চলছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব।
বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং সে সময় কারা কী ভূমিকা রেখেছিল, তার ফলাফল দেশের মানুষ দেখেছে। কুফরি, হঠকারিতা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ ধারণার কথা বলেন। তার মতে, দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করার পর এখন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা জরুরি—শুধু ভোট ও মত প্রকাশের অধিকার নয়, মানুষকে স্বাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়িবহর আলিয়া মাদরাসা মাঠে পৌঁছায় এবং ১২টা ৩০ মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন। সকাল থেকেই আলিয়া মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগম বাড়তে থাকে। সিলেট নগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে জড়ো হন। শীত উপেক্ষা করে বুধবার রাত থেকেই অনেকে মাঠে অবস্থান নেন।
