নির্বাচনের বাকি ১০ দিন : সিলেটে প্রতিদিন মিলছে অ*স্ত্র, বি*স্ফো*র*ক
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫:১৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর ১০ দিন বাকি থাকতে সিলেট জেলায় বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে। প্রতিদিনই সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে অস্ত্র বা বিস্ফোর উদ্ধার হচ্ছে। বিশেষ করে ঝোপঝাড়, সরকারি বেসরকারি স্থাপনার পুরাতন ভবন, স্কুল ও হাসপাতালের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় মিলছে এসব অস্ত্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সর্বশেষ রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যা নাশকতায় ব্যবহারের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
র্যাব ৯ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের একটি আভিযানিক দল অদ্য ১ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ী এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের আশপাশে তল্লাশি চালায়। এ সময় একটি শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি বিদেশি ৯ মিলিমিটার রিভলভার, ৩টি নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ১টি সেফটি ফিউজ, ৩টি পাওয়ার জেল এবং ৫টি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয় বলে র্যাব দাবি করেছে।
র্যাবের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর ও পাওয়ার জেল উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এসব আলামতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি, এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। উদ্ধারকৃত সামগ্রী নাশকতার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে র্যাব জানায়।
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধার করা আলামত জিডি মূলে কোম্পানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
র্যাব আরও জানিয়েছে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত র্যাব ৯ এর দায়িত্বপূর্ণ সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৪১টি দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ৬টি ম্যাগাজিন, ১৩ হাজার ৫২৫ গ্রাম বিস্ফোরক, ৭৯টি ডেটোনেটর, ১টি সাউন্ড গ্রেনেড, ৫টি পেট্রোল বোমা, ১১টি ককটেল, বিপুল পরিমাণ এয়ারগানের গুলি এবং ১০৪টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে। এসব অভিযানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলেও সংস্থাটির বক্তব্য।
