https://www.emjanews.com/

13793

politics

প্রকাশিত

১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪:৫১

আপডেট

১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫:১৩

রাজনীতি

সিলেট ১ আসনে

জামানত হারালেও বাম দলের মধ্যে বাসদ বিজয়ী

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪:৫১

ছবি: সংগ্রহ

সিলেট-১ আসনে বামপন্থী দলগুলোর নির্বাচনী ব্যর্থতা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যেখানে দেশের অন্যান্য এলাকায় জোটবদ্ধ রাজনীতির মাধ্যমে একক প্রার্থী দিয়েছিলো সেখানে সিলেটে বাম দলগুলো উল্টো বিভক্ত অবস্থান নেয়। 
সাম্প্রতিক সময়ে ‘গণতন্ত্র কায়েম, ভোটাধিকার নিশ্চিত ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্য সামনে রেখে গঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সিলেট-১ আসনে একক প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে এখান থেকে  বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং বাসদ (মার্কসবাদী) দল তিনটি আলাদা আলাদা প্রার্থী দেয়।
ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, বাসদের প্রণবজ্যোতি পাল পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৪ ভোট, সিপিবির আনোয়ার হোসেন সুমন পেয়েছেন ৯০৮ ভোট এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সঞ্জয় কান্তি দাস পেয়েছেন ৮০১ ভোট। তিন দলের মধ্যে বাসদ এগিয়ে থাকলেও তিন প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এটি বাম রাজনীতির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে বিভক্ত বাম রাজনীতি সাধারণ ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। একক প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভোট বিভাজন হয়েছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে বাম ভোটব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়েছে। অথচ বাম দলগুলোর নেতারা দাবি করেছিলেন, শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা ও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে এবার তারা ভালো ফল করবেন। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের আন্দোলনে বাসদের প্রণবজ্যোতি পাল ও জাফর আহমেদের ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। এমনকি তারা কারাবরণও করেছেন। জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনে বাম নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে বাস্তবতা হলো, এসব আন্দোলন নির্বাচনী রাজনীতিতে ভোটে রূপান্তরিত হয়নি। সিপিবি দীর্ঘদিন অংশগ্রহণমূলক নয় বলে আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচন বর্জন করলেও এবার আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে অংশ নেয় এবং ‘প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতের দাবিতে অনশন কর্মসূচিও পালন করে। কিন্তু ভোটের মাঠে কাস্তে প্রতীকের পক্ষে জনসমর্থন দেখা যায়নি।
এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর, বাসদের প্রার্থী প্রণব জ্যোতি পাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তাতে সিলেট ১ আসনে চতুর্থ হওয়ার কথা জানান, তিনি লিখেন, ‘

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে আমরা বাসদের মই মার্কায় পোস্টাল ভোটসহ ১১৩৪ ভোট পেয়েছি।  সিলেট-১ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে আমরা চতুর্থ হয়েছি। তা আলাদা ভাবে পোস্টাল ভোট ও  কেন্দ্র ভিত্তিক ভোট উভয়ই ক্ষেত্রে আলাদা ভাবে বাসদ প্রার্থী প্রণব জ্যোতি পাল  সিলেট ১ আসনে চতুর্থ। 

চলমান প্রথাগত ও ভোগবাদী রাজনীতির কোটিপতি পেশিশক্তিধারী প্রার্থীদের বিপরীতে আমাদের উপর আস্থা, সমর্থন ও ভালোবাসা রেখেছেন যারা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের বাসদের অঙ্গীকার মহান মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত এবং সকল ধর্ম-বর্ণ-পেশার নাগরিকের বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মানের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে আমাদের অনুপ্রানিত করবে এই ভোট। আপনাদের প্রতিটি ভোট আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেরণা। এই প্রতিটি ভোট চা শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্টা, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নাগরিক জীবনের আন্দোলন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখবে। এই ভোট সিন্ডিকেট ব্যবসা, দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে। 

নির্বাচনের পুরো যাত্রায় যারা নানাভাবে সহযোগিতা, পরামর্শ, আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, স্ব-শরীরে নির্বচনের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি । যারা নানাভাবে অসহযোগিতা, সমালোচনা করেছেন তাঁদের প্রতিও শুভকামনা জানাচ্ছি। আর বিদেশ থেকে যেসকল বন্ধু-স্বজন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন তাঁদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা। সিলেট -১ আসনের সকল ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি । মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই চলবে!’।