ছবি: সংগৃহীত
ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে এক হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
তবে সরকারি এ মূল্য হ্রাসের ঘোষণা সত্ত্বেও সিলেট নগরীর বাজারে এলপি গ্যাসের দাম কমেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। নগরীর বাগবাড়ি, মদিনা মার্কেট, আম্বরখানা, বন্দরবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানে এখনো ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬৫০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়।
নগরীর বাগবাড়ি এলাকার এক ক্রেতা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে শুনেছি, কিন্তু দোকানে এসে দেখি আগের দামেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য ৫০-১০০ টাকাও বড় বিষয়। ঘোষণা আর বাস্তবতার মধ্যে কোনো মিল নেই।’
আরেকজন ক্রেতা আশফাকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন দিন ঘুরে এক দোকানে এক হাজার ৬৫০ টাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার পেয়েছি। তাও সিলিন্ডার হতে হবে তাদের নির্ধারিত কোম্পানীর। সিলিন্ডার অদল-বদলের ঝামেলায় পড়ে আমরা আরো পেরেশান হচ্ছি।’
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের বেশি দামে কেনা গ্যাসের মজুত শেষ না হওয়ায় নতুন দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। শামিমাবাদের এক এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী রিপন দাস বলেন,
‘আমরা সরবরাহকারীর থেকে তাদের নির্ধারিত দামেই গ্যাস কিনছি। সেই গ্যাস বাড়তি দামে বিক্রি না করে কম দামে দিলে আমাদের লোকসান হবে। নতুন দামে সরবরাহ এলে তখনই কম দামে বিক্রি করা যাবে।’ এছাড়া চাহিদামতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি জানান।
বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এদিকে এলপি গ্যাসের দাম সহনীয় রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করে নেয়। একই সঙ্গে আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। এসব সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার এলপিজির দাম কিছুটা কমানো হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও বাজারে তা কার্যকর না হলে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। তথ্য দিয়ে আমাদের সহায়তা না করলে ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হবেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে সিলেটের বাজারে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ।
