আজ বিকেলে পাঁচ দিনের সিলেট আসছেন শ্রম ও কর্মসংস্থা্ন এবং প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমানযোগে সিলেট আসবেন তিনি। এরপর সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।
শুক্রবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি।
শনিবার জৈন্তাপুর উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচীর উদ্বোধন করবেন। দুপুরে সিলেট অঞ্চলের পরিবেশগতভাবে সঙ্কটপূর্ণ নদীসমূহ পুণরুদ্ধার এবং স্থানীয় সম্প্রদায় নির্ভর পরিবেশবান্ধব পর্টেনের বিকাশ শীর্ষক প্রকল্প পরিদর্শন করবেন। একইদিনে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করবেন।
রোববার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জিন্দাবাজারের ওভারসিজ সেন্টার, প্রবাসী কল্যান বাংক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। দুপুরে মৌলভীবাজারে গিয়ে এম সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত, বরুণা মাদ্রাসা পরিদর্শন ও কমলগঞ্জে নিজ দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করবেন।
সোমবার সকালে সিলেট জেলা প্রশসেকের কার্যালয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করবেন। ওইদিন দুপুরে তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন।
নবনিযুক্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো জন্মস্থান সিলেট সফরে আসছেন আরিফুল হক চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন।
সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হিসেবে রোববার মৌলভীবাজারে গিয়ে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে সাইফুর রহমানের কাছ থেকেই আরিফুল হক চৌধুরী রাজনীতি ও উন্নয়ন ভাবনার শিক্ষা পেয়েছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে মন্ত্রী হওয়ার পর রাজনৈতিক গুরুর কবর জিয়ারতের সিদ্ধান্তকে অনেকেই কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান এর আস্থাভাজন হিসেবে মূলত আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং একই সময়ে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় সাইফুর রহমানের সিলেটকেন্দ্রিক বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় ও তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন আরিফুল হক চৌধুরী। রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘনিষ্ঠতা ও প্রভাবের কারণে অনেকেই তাকে তখন অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ছায়া অর্থমন্ত্রী’ হিসেবেও উল্লেখ করতেন।
অপরদিকে, একই দিন তিনি বরুণা মাদ্রাসা পরিদর্শন করবেন এবং বরুণার পীর সাহেব রশীদুর রহমান ফারুক এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। আরিফুল হক চৌধুরী একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। বরুণার পীর সিলেটের অন্যতম শীর্ষ বুজুর্গ হওয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বিভিন্ন সময় তার দোয়া ও পরামর্শ নিয়ে থাকেন। মেয়র থাকাকালীন এবং পরবর্তী সময়েও বরুণা মাদ্রাসার বিভিন্ন মাহফিল বা আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের ইজতেমায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকেছেন। তাছাড়া সিলেটে বরুণার পীর সাহেবের ভক্ত ও অনুসারীর সংখ্যা বিশাল। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবেও আরিফুল হক চৌধুরী সর্বদা সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন।
