ছবি: সংগৃহিত।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১৩৩ জন নিহতের দাবি, পাল্টা জবাবে ৫৫ পাক সেনা হত্যার দাবি তালেবানের
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ কান্দাহার ও পাক্তিকা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। শুক্রবার ভোরে চালানো এই হামলায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কার্যত ‘যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, কাবুল, পাক্তিকা ও কান্দাহারে তালেবানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের হামলায় এ পর্যন্ত ১৩৩ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০০-র বেশি সদস্য।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি সাফ জানিয়েছেন, দেশের প্রতিরক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের "সর্বাত্মক ও দৃঢ়" জবাব দেওয়া হবে।
৫৫ পাক সেনা নিহতের দাবি আফগানিস্তানের। তালেবান সরকার এই হামলাকে বিনা উসকানিতে আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছে। তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, তাদের পাল্টা অভিযানে ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে এবং অনেককে আটক করা হয়েছে।
আফগান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, তারা সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি চেকপোস্টগুলো লক্ষ্য করে সফল অভিযান চালিয়েছেন।
তবে পাকিস্তানের হামলায় কোনো হতাহতের খবর প্রথমে অস্বীকার করলেও, পরবর্তীতে তালেবান পক্ষ থেকে বড় ধরনের পাল্টা অভিযানের কথা জানানো হয়।
গত রবিবার (২২শে ফেব্রুয়ারি) থেকেই দুই দেশের সীমান্তে অস্থিরতা শুরু হয়। পাকিস্তানে একটি আত্মঘাতী হামলার জের ধরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে 'জঙ্গি আস্তানা' লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এরপর থেকেই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।
পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি ‘যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে, এখন সরাসরি যুদ্ধ হবে।" অন্যদিকে, সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আফগানদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভূখণ্ড রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার ভোরে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ এবং যুদ্ধবিমানের শব্দে কেঁপে ওঠে কাবুল শহর। রাত আড়াইটা পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির শব্দ শোনা গেছে।
পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যদিও উভয় পক্ষই একে অপরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে, তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দুই দেশের এই সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
