শিরোনাম
সিলেট বিভাগের ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম: তদন্তে মন্ত্রনালয় সিসিক মেয়রের দৌড়ে প্রশাসক, বললেন এটা ‘ড্রেস রিহার্সাল’ ওসমানী বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট বাতিল ইরানে শোকের ছায়া: বিদায় নিলেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী ইমজার নতুন কমিটি: সভাপতি রিপন, সম্পাদক আনিস মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত, জরুরি নির্দেশনা জারি বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন: আলোচনায় সিলেটের তিনজন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-কে সংবর্ধনা সরকারি কর্মকর্তারা ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে সহযোগিতা করেছেন: কাইয়ুম চৌধুরী

https://www.emjanews.com/

14087

sylhet

প্রকাশিত

০১ মার্চ ২০২৬ ১৪:৩২

আপডেট

০১ মার্চ ২০২৬ ১৪:৩৪

সিলেট

সিসিক মেয়রের দৌড়ে প্রশাসক, বললেন এটা ‘ড্রেস রিহার্সাল’

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ ১৪:৩২

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আসন্ন সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি তার বর্তমান প্রশাসক পদটিকে আগামী সিটি নির্বাচনের একটি ‘ড্রেস রিহার্সাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন বা ইমজা সিলেটের সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ঘোষণা দেন।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দল একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তাকে সিলেট সিটি কর্পো রেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এটি মূলত একটি ড্রেস রিহার্সাল। সিলেট সিটির সার্বিক অবস্থা বোঝা এবং নগরবাসীর সমস্যা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিতেই তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন- কে হচ্ছেন সিসিকের আগামী মেয়র: প্রশাসক নিয়োগ নাকি ‘ড্রেস রিহার্সাল’?

তিনি আরও জানান, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নগরীর আইনশৃঙ্খলা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, যানজট নিরসনসহ নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

সভায় উপস্থিত ইমজা সিলেটের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট নগরীর প্রকৃত চিত্র জানতে মাঠপর্যায়ে কাজ করা জরুরি। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি নগরবাসীর প্রত্যাশা ও সমস্যা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। আর এভাবেই নিজেকে মেয়র পদের জন্য তৈরি করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আগেই ধারণা করেছিলেন, আমলাদের হাত থেকে একজন রাজনীতিবিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটি আসন্ন সিটি নির্বাচনেরই একটি আগাম প্রস্তুতি। শনিবার কাইয়ুম চৌধুরীর এই বক্তব্যের পর বিশ্লেষকদের সেই ধারণাই সত্য হলো।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সিসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিসিকের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ কাউন্সিলরদের অপসারণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে বিভাগীয় কমিশনার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়া নাগরিক সেবাগুলো রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে পুনরায় সচল করতেই তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগর ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি।

সদ্য গঠিত বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যেই আগামী তিন মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ডের আয়তন ৭৯.৫০ বর্গকিলোমিটার এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮ জন। জাতীয় নির্বাচনে সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সিলেট-১ এবং সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। সংসদ নির্বাচনের সেই হাওয়া এবার সিটি নির্বাচনেও বিএনপির পালে লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর সেই লক্ষ্যেই প্রশাসক পদের এই ড্রেস রিহার্সাল শেষে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সরাসরি ব্যালটের লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন। তার এই প্রার্থিতা ঘোষণার পর সিলেট নগরীর রাজনীতিতে এখন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।