https://www.emjanews.com/

14185

sylhet

প্রকাশিত

০৫ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৮

সিলেট

সিলেট বিভাগের যে ২ উপজেলায় চালু হচ্ছে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড, কারা পাবেন?

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৮

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে নতুন দুটি কর্মসূচি চালু করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেট বিভাগের দুটি উপজেলাসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, আগামী সোমবার (১০ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, শুরুতে দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা বাড়িয়ে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা, ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর ও ঢাকার নবাবগঞ্জ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত এই চার শ্রেণিতে বিভাজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ বিভাগের সচিব সভায় জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড এবং ভ্যালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচিকে সমন্বয়ের আওতায় আনার চিন্তাভাবনা রয়েছে। উপকারভোগী নির্ধারণে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইউনিয়নের নাম বাধ্যতামূলক থাকবে। একই ব্যক্তি যাতে একাধিক সুবিধা না পান, সে জন্য অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে তথ্য সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডে সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। কোনো পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে। একজন ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথকভাবে ভাতা সুবিধা নিতে পারবেন।

উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। অনুদানের অর্থ ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী নারীরা পরিবারপ্রধান হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন এবং তিনি অন্য কোনো ভাতা গ্রহণ করবেন না, তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্য প্রয়োজন অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পেতে পারবেন।

এদিকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে তিনটি গ্রামের ৯৫৪টি পরিবারের ওপর জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাব্বির সারোয়ার।

জানা গেছে, জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আকিল শাহ, রাধানগর ও উত্তর সূরিয়ারপাড় গ্রামকে এই কর্মসূচির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এসব গ্রামের ৯৫৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং যাচাই শেষে ৭৮৫টি পরিবারের তথ্য সার্ভারে জমা দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই তিনটি গ্রামে সরকারের বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন ১৭৩ জন, বিধবা ভাতা পাচ্ছেন ৮৬ জন, প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন ৭০ জন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভিডব্লিউভি কর্মসূচির চাল পাচ্ছেন ৩৪ জন এবং খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল পাচ্ছেন ৪১ জন উপকারভোগী।

অন্যদিকে কৃষকদের জন্য নতুন আরেকটি কর্মসূচি হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর দেশের আট বিভাগের নয়টি উপজেলার নয়টি ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।

নির্বাচিত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে মৌলভীবাজারের জুড়ী, টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ।

প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায়ের কার্যক্রম শেষে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আগামী সোমবার (১৪ এপ্রিল) পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।