শিরোনাম
‘অতি উৎপাদন’ ও ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে বাংলাদেশের নাম সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহার ঈদ যাত্রায় জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় বেশির কারখানা শ্রমিকরা বেতন ভাতা পেয়েছেন: আরিফুল হক চৌধুরী যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী না হলে আপাতত জ্বালানী নিয়ে শঙ্কা নেই: খন্দকার মুক্তাদির সিলেট সীমান্ত দিয়ে ৪ নারীকে কেন নিয়ে গেল ভারতে সিলেটে চলছে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় আ ট ক ৫৯ ইমাম মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সিলেটসহ সারাদেশে কয়েক দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা

https://www.emjanews.com/

14382

surplus

প্রকাশিত

১৪ মার্চ ২০২৬ ২২:১৬

অন্যান্য

সিলেটে অভিবাসন ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ ২২:১৬

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে শিক্ষার্থী অভিবাসন সংক্রান্ত ভুল তথ্য, প্রতারণা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেন্টার ফর কমিউনিকেশন অ্যাকশন বাংলাদেশ (সি-ক্যাব)–এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সভার শিরোনাম ছিল ‘সাত সমুদ্রের ওপারে: সিলেটে অভিবাসন ইস্যুর সংবাদ কাভারেজ জোরদার করা’।

সভায় সিলেটের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন এবং শিক্ষার্থী অভিবাসনের বর্তমান বাস্তবতা, তথ্যের ঘাটতি ও দায়িত্বশীল রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সি-ক্যাবের নির্বাহী পরিচালক জেইন মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তকে অভিবাসন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রাখতে হবে, যাতে ভুল তথ্যের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

তিনি জানান, ভুল তথ্য, গুজব এবং অসাধু দালালচক্রের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ডিপোর্টেশন, আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তরুণদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন আইডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হক। তিনি অদক্ষ বা দক্ষতাহীন অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক সময় ব্যক্তির যোগ্যতা বা সক্ষমতা বিবেচনা না করেই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিনা চৌধুরী শিক্ষার্থী অভিবাসনের সামাজিক প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজন বিদেশে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি বা বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করা হয় না। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা- যেমন ভালো ইংরেজি বা আইইএলটিএসে উচ্চ স্কোর- অনেকেই অবমূল্যায়ন করেন।’

মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিকরা বলেন, বিদেশে যাওয়া এখন অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদা ও ‘ভালো জীবনের’ প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে অনেক তরুণ শুধু উচ্চ আয়ের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তারা আরও বলেন, সিলেটের অভিবাসনমুখী মানসিকতা শিক্ষার পরিবেশেও প্রভাব ফেলছে এবং এই বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

আলোচনায় ভুয়া বিয়ে বা কাগুজে বিয়ের মাধ্যমে ভিসা নেওয়ার বিষয়ও উঠে আসে। পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কতজন প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনা সম্পন্ন করছেন- এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে তথ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।

সভায় জানানো হয়, সি-ক্যাব অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক ভিডিও তৈরি, বাস্তব অভিজ্ঞতার টেস্টিমোনিয়াল, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য তথ্যভিত্তিক গাইড, কমিউনিটি আউটরিচ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ।