ইতিহাসের ধারায় শ্রমের সেতুবন্ধন: মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশিদের নিয়োগ
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ ২০:১৬
ছবি: আহমাদুল কবির।
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া:: মালয়েশিয়া বরাবরই কৃষি নির্ভর অর্থনীতির দেশ ছিল। কৃষি সেক্টরকে চালিত করার জন্য ব্রিটিশ ভারত থেকে কর্মী নিয়োগ করে। একই সাথে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য চীন থেকে কর্মী নিয়োগ করে।
ভারত উপমহাদেশ এবং মালোয়েশিয়া একই ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ছিল এবং তখন মাদ্রাজ, কলকাতা বন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ায় আখ ও রাবার চাষের জন্য কর্মী নিয়োগ করে। এভাবে ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কর্মী নিয়োগ করে।
ব্রিটিশ ভারতের বাংলাভাষী জনগণ বিশেষ করে কলকাতা, বিহার ও ঢাকা অঞ্চলের বেশ কিছু অধিবাসী ব্রিটিশ সরকারের অধীনে মালয়েশিয়ায় আসে। পোর্ট ডিকসনের বাঙালিপাড়া সে সাক্ষ্য বহন করছে। কালক্রমে বাঙালিদের কয়েক প্রজন্ম চলে গেছে, অনেকেরই পূর্বসুত্র বহাল নেই। সবাই এখন মালয়েশিয়ান।
শুধু অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নয় মালয়েশিয়ার স্বাধীনতার সময় মালয়দের সাথে এক হয়ে তারা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে। তার স্বীকৃতি স্বরূপ মালয়েশিয়া তাদের নাগরিকত্ব দিয়েছে।
৭০ এর দশকে মালয়েশিয়া কৃষি নির্ভর থেকে শিল্প নির্ভর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা শুরু করে। এরপর ৮০, ৯০ দশক পেরিয়ে একটি উন্নত ও শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এই উদ্বোধনের পিছনে রয়েছে মালয় সরকারের পরিকল্পনা এবং বিদেশি অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ।
বাংলাদেশ শ্রম বিনিয়োগ করে মোটামুটি ৯০ দশক থেকে। বলা হয়, মালয়েশিয়ার প্রতিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর সাথে বাংলাদেশির ঘাম,শ্রম, মেধা, দক্ষতা ও আন্তরিকতা মিশে আছে।
বাংলাদেশিদের এমন শ্রম, ঘাম, মেধা,দক্ষতা, আন্তরিকতা ও সততা জড়িয়ে আছে মালয়েশিয়ার কৃষি, প্ল্যান্টেশন, নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা, খনিজ সেক্টরে। বাংলাদেশের পাশপাশি ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কাসহ ১৪ টি দেশের শ্রমকে সঠিক ব্যবহার করেছে।
অপর দিকে এসব দেশ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ ও বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপক ভাবে উপকৃত হয়েছে যা ঐসকল দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার যে শ্রম নির্ভর সম্পর্ক গড়ে ওঠে তা এখন বিনিয়োগ অংশীদার এ উপনীত করেছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ৮ম বৃহত্তর বিনিয়োগ অংশীদার।
আরামদায়ক আবহাওয়া, খাবারের সাদৃশ্য, স্থানীয়দের আতিথেয়তা ও ভ্রাতৃত্বসুলভ ব্যবহার এবং ধর্মীয় সাযুজ্য থাকায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশীদের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা দিয়েছে। দিয়েছে আয়ের নিশ্চয়তা। ফলে, বাংলাদেশের প্রতি মালয়েশিয়ার এই আন্তরিকতা ও সহানুভূতি বিশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশ স্মরণ করে। তবে বেশ কিছু ফ্যাক্টর উভয় দেশের সম্পর্ককে হোঁচট খেতে হয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম কর্মী নিয়োগ শুরু ও বন্ধ করে দেওয়া।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে অতিরিক্ত কর্মী আগমনকে কেন্দ্র করে কাজ, খাবার ও আবাসন না পেয়ে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলে সতর্ক মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে।
এরপর ২০০৯ সালের ১০ মার্চ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে জারীকৃত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর জি টু জি পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু মাত্র একটি প্ল্যান্টেশন সেক্টরে ১০ হাজারের কম কর্মী নিয়োগ করে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে ‘জি টু জি প্লাস’ নামের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে সকল সেক্টরে (৬ টি) কর্মী নিয়োগের জন্য খুলে দেয়।
মালয়েশিয়া প্রান্তে প্রাইভেট এজেন্সি না থাকা, ১০ টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির জোট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আবারও সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং কাজ না পাওয়ার অভিযোগে নিয়োগ বন্ধ করে মালয়েশিয়া।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটাদাগে কয়েকটি অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বারবার এসেছে, যেমন অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, কাজ ও বেতন না পাওয়া।
দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়া অভিযোগগুলো থেকে বের হবার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার এবং মানবপাচারের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেটিং মান উন্নত করার প্রচেষ্টা লক্ষ্যনীয়। এজন্য মালয়েশিয়া সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার শর্তগুলো পরিপালন করা, সহজ অভিযোগ দেয়ার পদ্ধতি চালু করা, শ্রম বিভাগ কর্তৃক কর্মীদের কর্ম ও আবাসস্থল পরিদর্শন করা, সমস্যা সমাধান করা, নিয়োগকর্তাদের নিয়ম কানুন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা, আমেরিকার শ্রম অডিট কর্তৃক অডিট সম্পাদন করা, নিয়োগকর্তাদের আন্তর্জাতিক রেটিং অর্জন করা, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
অভিবাসন ব্যয় নিয়ে রয়েছে পুরোনো অভিযোগ। সর্বশেষ জাতিসংঘ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এ ক্ষেত্রে উভয় দেশেই দুর্নীতি হয়েছে। মালয়েশিয়া বিভিন্নভাবে তদন্ত করে নিশ্চিত করেছে যে, অভিবাসন ব্যয় বেশি হলেও কোনো দুর্নীতি হয় নি। এমন কি তৎকালিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বিন মোহাম্মদ নিজেও পার্লামেন্টে বলেছেন যে, সিস্টেম ঠিক আছে। কিন্তু এই সিস্টেমের পিছনের মানুষদের নিয়ে তার সন্দেহ আছে। এই সন্দেহ থেকেই ' সিন্ডিকেট ' শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা যায়। শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা এন্ডি হল এবং মালয়েশিয়ার এনজিওগুলোও অনেক বার অনুরূপ দুর্নীতি, শ্রম শোষণ ও মানব পাচারের কথা বলে আসছে। এসব নিয়ে মালয়েশিয়া সরকার অবস্থান পরিষ্কার করলেও, অদ্যাবধি বাংলাদেশ পক্ষে এসব নিয়ে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগশন ডিপার্টমেন্ট ( সি আই ডি) তদন্ত করছে এবং দুদক মামলা করেছে যা আদালতে আছে। ২০১৭ সালের সিন্ডিকেট নিয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে কিন্তু দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার হয় নি। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গন এবং মালয়েশিয়াকে ধোঁয়াশার মধ্যে রেখে দিয়েছে। তাই, নতুন করে কর্মী নিয়োগের পরিষ্কার কোনো বার্তা পাওয়া যাচ্ছে নাএবলে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা বলছেন।
মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সরকারিভাবে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়া প্রান্তের যাবতীয় খরচ এবং বিমান ভাড়া নিয়োগকর্তা বহন করে বাংলাদেশ প্রান্তে পাসপোর্ট, মেডিকেল স্ক্রিনিং, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স, ভিসা ফি, এবং রিক্রুটিং এজেন্সির ফিস ব্যতীত কোনো খরচ না থাকায় সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা ধার্য্য করা হয়। কিন্তু মালয়েশিয়ার কিছু কিছু নিয়োগকর্তা অভিবাসন ব্যয়ের অর্থ কর্মীকে ফেরত দেবার ঘোষণা দিলে কর্মীরা সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় নয় তাদের প্রকৃত যে ৪/৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে সেটি ফেরত পেতে দাবি করে এবং অসহযোগ আন্দোলন পর্যন্ত করে। তখন বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রেতা, শ্রম অধিকার সংস্থা ইত্যাদির দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সিস্টেমের বাইরে গিয়ে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বা ইচ্ছা থেকে অনেক নিয়োগকর্তা পিছু হটতে বাধ্য হয়। ৩১ মে ২০২৪ তারিখের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রবেশের ডেডলাইন দেয় মালয়েশিয়া। কিন্তু সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও ফ্লাইট না পাওয়ায় মালয়েশিয়ায় যেতে না পারাদের পুনরায় মালয়েশিয়ায় প্রেরণের উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ সরকার যেতে না পারাদের বিষয়টি একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি দিয়ে তদন্ত করে প্রমাণ পায় যে, সরকার নির্ধারিত ৮০ হাজার টাকার অতিরিক্ত ৩/৪/৫ লাখ টাকা রিক্রুটিং এজেন্সিকে দিয়েছে। খোদ সরকার তদন্তে অতিরিক্ত অর্থ দেবার প্রমাণ পেলেও সরকারি আদেশ অমান্য করা বা ভঙ্গ করার বিরুদ্ধে কোনো একশন নেয় নি। তবে কেউ অভিযোগ করলে সরকার রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে সার্ভার লক শাস্তি আরোপ করেছে মর্মে জানা যায়। যদি অভিযোগকারীকে অর্থ ফেরত দেয় ও মীমাংসা করে তাহলে সার্ভার আনলক করে। সার্ভার লক করার অর্থ রিক্রুটিং এজেন্সি কোনো দেশে কর্মী প্রেরণ করতে ক্লিয়ারেন্স পাবে না।
এ ধরনের অনেক অভিযোগ, সি আই ডি, দুদক ও আদালতে মামলার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার সেগুলো নিষ্পত্তি করার তাগাদা দিয়েছে বলে মিডিয়ায় এসেছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ জানতে চায় যে, মালয়েশিয়া সরকার কীভাবে কোন কোন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কর্মী প্রেরণকারী দেশগুলোর রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাবদ্ধ করে। তৎপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার সুনির্দিষ্ট করে ১০ টি শর্ত প্রেরণ করে সকল কর্মী প্রেরণকারী দেশের নিকট। নেপাল, পাকিস্তান জানিয়ে দেয় যে, একতরফাভাবে নির্ধারিত ১০ টি শর্ত তাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসের আয়তন, বিদেশে কর্মী প্রেরণ সংখ্যা এবং নিজস্ব ট্রেনিং সেন্টার থাকার শর্ত শিথিল করার প্রস্তাব দেয় কিন্তু মালয়েশিয়া পক্ষ কোনো প্রতিউত্তর না দিলেও বাংলাদেশ উক্ত তিনটি বাদ দিয়ে ৭টি ও ৬ টি শর্ত পূরণ করেছে এমন রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের নিকট হস্তান্তর করেছে মর্মে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায় নি। ধারণা করা হয়েছে, কর্মী নিয়োগের প্রাক্কালে মালয়েশিয়া রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা প্রকাশ করবে। তবে শোনা যায় সীমিত রিক্রুটিং এজেন্সি পদ্ধতি অনুসরণ করবে মালয়েশিয়া। অভিবাসন ব্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে মালয়েশিয়া বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব রিডিং এর ভিজিটিং প্রফেসর,ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে থাকা কর্মীর নিকট থেকে নিয়োগের পূর্বেই অর্থ নেওয়া হয় বিধায় বিষয়টি বাংলাদেশকেই ক্লিয়ার করতে হবে যে, ভবিষ্যতে মার্কেট খুললে বাংলাদেশ অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি না। অপর দিকে নিয়োগ কর্তা সকল খরচ প্রদান করে থাকলে কর্মীর নিকট থেকে পাসপোর্ট, বিমান ভাড়া, মেডিকেল স্ক্রিনিং, ভিসা গ্রহণ বাবদ টাকা নেওয়ার বিষয়টি উভয় দেশকে যাচাই করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার দাবিও আছে। বিষয়গুলো পরিষ্কার করা দরকার।'
সীমিত রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়ে অনেকে বলে থাকেন, ১০, ২৫ বা ১০১ টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নয়, মালয়েশিয়ার উচিত জাপানের কর্মী নিয়োগ মডেল অনুসরণ করা তাহলে কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়াকে বারবার হোঁচট খেতে হবে না। জাপান এর সরকারি সংস্থা ওটিআইটিতে প্রদর্শিত তথ্য মতে, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্টকে তালিকাভুক্ত করে তাদের মাধ্যমেই কর্মী নিয়োগ করছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে যে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি এই তালিকাভুক্ত হতে পারে। সেখানে ৯৫ টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি তালিকাভুক্ত দেখা যায়।
অভিবাসী কর্মীদের নিয়ে কাজ করা পুরস্কার প্রাপ্ত কালের কন্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী বলেন, 'মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য যেতে এত টাকা কেন লাগে, এই প্রশ্ন শুধু বাংলাদেশ নয় , মালয়েশিয়াতেও উত্থাপিত হয়েছে বারবার। বাংলাদেশি কর্মীরা নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার ইত্যাদি দেশের কর্মীদের সাথে কাজ করতে গিয়ে জানতে পারে কে কত টাকা খরচ করে এসেছে। যখন বাংলাদেশি কর্মী নিজের অতিরিক্ত খরচের তথ্য জানতে পারে তখন সে উচ্চারণ করে কেন এত টাকা? কারণ এই অতিরিক্ত চাপিয়ে দেওয়া টাকা জোগাড় করতে ঋণ করতে হয়, যে ঋণ কখনোই শোধ হয় না। এর ফলে যে শ্রম দেয় সেটিকেই আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে জোর জবরদস্তি শ্রম, আর অধুনা একে বলা হয়েছে মানবপাচার।'
সানওয়ে ইউনিভার্সিটির বিজনেস মেনেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. খালেদ শুকরান বলেন, ‘বাংলাদেশকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, দেশটি তার নাগরিককে জোর জবরদস্তি ও মানব পাচারের মধ্যে ফেলে দিবে, না কি স্বস্তির জায়গা দিবে। যে দেশ লক্ষ লক্ষ নাগরিককে চাকরি ও আয় রোজগারের ব্যবস্থা ও সুযোগ দিয়েছে সে দেশকে স্বস্তির উপায় দিবে কি না এবং এর উপর নির্ভর করছে মালয়েশিয়ায় আগামীর কর্মসংস্থান।’
