ছবি: সিসিক
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ‘সিসিকের কোনো ওয়ার্ডই অনুন্নত থাকবে না; পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।’
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারগাঁও আবাসিক এলাকায় এলইডি সড়কবাতির ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ২৭টি ওয়ার্ড থেকে ৪২টি ওয়ার্ডে সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে নতুন ওয়ার্ডগুলোতে এখনও সব সেবা পুরোপুরি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে এসব এলাকায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে এবং এলইডি লাইট স্থাপনের মাধ্যমে কিছু ওয়ার্ডকে আলোকিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে- কোনো ভাঙা রাস্তা বা খোলা ড্রেন থাকবে না।
বর্ধিত ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সিসিকের সব ধরনের সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধাপে ধাপে তাদের সব দাবি পূরণ করা হবে।
নগর উন্নয়নে নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি সময়মতো হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ ও ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় সীমিত; নাগরিকদের সহযোগিতা বাড়লে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং সেবার মানও উন্নত হবে।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে একটি গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়ে তোলার দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পর্যটন নগরী হিসেবে সিলেটের সৌন্দর্য রক্ষা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।
প্রসঙ্গত, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট’-এর আওতায় এ আধুনিক এলইডি আলোকসজ্জা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস জানান, এলইডি লাইট স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং ‘স্মার্ট কন্ট্রোল সিস্টেম’-এর মাধ্যমে অপচয় রোধ হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শহীদ আহমদ, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক শাহজাহান আহমদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, আলাউর রহমান আলী, আব্দুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার পর সিসিক প্রশাসক ফিতা কেটে ও স্যুইচ টিপে সড়ক বাতি উদ্বোধন করেন।
এর আগে তিনি ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের টিলারগাঁও পরিদর্শন করেন এবং এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকেলে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ডলিয়া কালীবাড়িতে বার্ষিক কীর্তন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
