ছবি: কামরুজ্জামান কামরুল এমপি।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুলকে যুক্ত করে কয়েক কৃষককের কথা বলা দুইটি ভিডিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
একটি ভিডিও’তে টাঙ্গুয়ার হাওরের বোরো ধান পানিতে ডুবার জন্য এমপিকে দোষারোপ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ভিডিওতে টাঙ্গুয়ারপাড়ের ৪-৫ জন সাধারণ কৃষকের কথোপকথনে এমপিকে দোষারোপ করতে দেখা যায়। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়া আরেকটি ভিডিওতে আগের দিনের ঘটনার জন্য ওই তিন কৃষককে জোর হাতে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। তবে ভিডিও দুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে।
কারো নাম এবং বিষয় উল্লেখ না করেও সিনিয়র সাংবাদিক উজ্জল মেহেদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখলেন, ‘সংসদে প্রথম বক্তৃতায় তিনি নিজেই জানালেন; এলাকার মানুষ তাকে ডাকে ‘হাওরবন্ধু’।
ডাকটি মধুর; জলে-জনগণে যার বন্ধুত্ব, মানুষের দুঃখে যার সাড়া। কিন্তু পরদিনই সেই বন্ধুত্বের পরীক্ষার দৃশ্যপটে তিনজন মানুষকে দেখা গেল। হাওরের বাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে; হয়তো একটু হা-হুতাশ, কটূ উক্তির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা।
অপরাধ? খুব বড় কিছু নয়; শুধু শোনানোর নাটকীয়তা। তারপর তাদের তুলে এনে আবদ্ধ ঘরে দাঁড় করানো হয়, হাতজোড় করিয়ে বলানো হয় সংলাপ; 'মাফ চাই'!
ক্যামেরা অন, গণতন্ত্র লাইভ! ক্ষমতার সামনে জনতা; কী অসহায় লাগে! তিনটি মুখের ভাঁজে ভাঁজে লজ্জা, ভয়, অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে একজন বয়স্ক; দেখতে যেন ঋষির মতো শান্ত। তবু তারও রেহাই নেই। কারণ এই দাপটে বয়স, মর্যাদা, সরলতা- সবই অপ্রাসঙ্গিক; প্রাসঙ্গিক শুধু ক্ষমতার স্ক্রিপ্ট। এমপির কাঠগড়া- যেখানে বিচার শুরু হয় হাতজোড় দিয়ে, শেষ হয় ভিডিও আপলোডে।
জিজ্ঞেস করা হলো- কারা করল? উত্তর এলো; 'এমপির লোক'। এরাই বুঝি এইবার গণতন্ত্রের নতুন প্রযোজক! নিজেরা স্ক্রিপ্ট লেখে, অভিনয় করায়, শেষে ভাইরাল করে দেয়।
অন্তর্জালে অন্তর্দহনে দেখেছি, বিগত জমানাতেও এক ‘হাওরবন্ধু’ ছিলেন; সমালোচনার শব্দে যার কানে ঝড় উঠত। কথা নয়, রূপক শুনলেই বাস্তবের মতো তাড়া করতেন।
সেই তাড়ায় তাড়িত হয়ে এবার দ্বিতীয় হাওরবন্ধুর কাছে নিবেদন; চারপাশে যারা ‘এমপির লোক’, তারা সবাই মানুষ নয়; কেউ কেউ চিনাজোঁক- চুপচাপ লেগে থাকে, সুযোগ পেলে রক্ত খায়, আর দায় চাপিয়ে দেয় অন্যের ঘাড়ে।
এমপির কাঠগড়ার অঙ্কুরেই শেষ টানা দরকার। নইলে একদিন দেখা যাবে হাওরের জলে আর প্রতিফলন নেই, শুধু ভেসে বেড়াচ্ছে হাতজোড় করা মুখগুলো।’
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন মেহেদী হাসান বললেন, ‘সংসদ সদস্যসহ আমরা কেউ-ই এই বিষয়ে কিছুই জানি না। শুনেছি এমপিকে অসৌজন্যমূলক কথা বার্তা বলে যারা ফেসবুকে ভিডিও ছেড়েছিল, গ্রামের মানুষ তাদেরকে বকাঝকা করেছে।’
তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, দ্বিতীয় ভিডিও’র বিষয়ে আমাদের জানা নেই। প্রথম ভিডিও’র বিষয়ে পুলিশ খোঁজ খবর নিচ্ছে।’
