https://www.emjanews.com/

14670

law-justice

প্রকাশিত

০১ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩১

আইন আদালত

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩১

ছবি: শেখ হাসিনা।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক খ্যাতনামা আইনজীবী প্রতিষ্ঠান কিংসলে ন্যাপলি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো এক চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

চিঠিতে অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে, যথাযথ নোটিশ প্রদান করে এবং শেখ হাসিনার পছন্দের আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনুরোধ জানানো হয়। এসব দাবির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা ১৪ দিনের (১৩ এপ্রিলের মধ্যে) মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

তবে বুধবার (১ এপ্রিল) এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন অফিস বা ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কেউই চিঠি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।

চিঠিতে শেখ হাসিনার মামলার বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ত্রুটি ও অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই চিঠি পাঠানোর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা স্বীকার করা হচ্ছে না। বরং শেখ হাসিনা ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করার অধিকার রাখেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর বিচার এমন একটি পরিবেশে হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক পক্ষপাত ও দমনমূলক কার্যক্রম চলমান ছিল। এতে রাজনৈতিক সহিংসতা, আইনজীবীদের ওপর হামলা এবং দলীয় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৯৭৩ সালের আইসিটি আইন মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য প্রণীত। কিন্তু পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে এই আইনের আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা মূল উদ্দেশ্যের বাইরে গেছে বলে দাবি করা হয়। জুলাইয়ের ঘটনাবলি সাধারণ ফৌজদারি আদালতের আওতাধীন বিষয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিচার প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং এতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের ১৪(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হয়েছে। বিচারক নিয়োগ ও পুনর্গঠন নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে।

এছাড়া চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশন টিমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং দুর্নীতির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে চিঠিতে বলা হয়েছে। আইনজীবীদের মতে, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার কেবল ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে হতে পারে, যা এখানে প্রযোজ্য নয়। তাই এ ধরনের বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করা হয়।

চিঠির শেষ অংশে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে- শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় ও সাজা বাতিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।