https://www.emjanews.com/

14733

sylhet

প্রকাশিত

০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫১

আপডেট

০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫২

সিলেট

১২ বছর ধরে দখলে সিলেটের সরকারি জলমহাল

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫১

ছবি: কায়সার আহমেদ।

সিলেটের কানাইঘাটে সরকারের খাস জলমহাল বাদিকুঁড়ি বিল (বদিবিল) ও এর পাশবর্তী ব্যক্তি মালিকানাধীন ফসলী জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর ওই জলমহালের মাছ বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে একটি চক্র। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিরও মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, উপজেলার ৯ নম্বর রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেহগঞ্জ হাওর মৌজার ৮৭ নম্বর জে.এল-এ অবস্থিত প্রায় ৩ দশমিক ৮৩ একর (প্রায় ১২ বিঘা) আয়তনের এই খাস জলমহাল দীর্ঘদিন ধরে দখলে রয়েছে। স্থানীয় মীর্জারগড় মৌজার মৃত আহসান মিয়ার ছেলে আশরাফ সিদ্দিকী সুহেল (৪৮) ও তার ভাই মহানগর যুবলীগ নেতা রুহেল আহমদ মুরাদ (৪৬) গংদের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ১২ বছরের বেশি সময় ধরে বিলটির মাছ বিক্রি করে অর্থ ভাগাভাগি করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার জলমহালটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও প্রভাবশালীদের বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালে রাজাগঞ্জের মৎস্য ব্যবসায়ী মদরিছ আলী ইজারা নিয়ে মাছ ধরতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। পরে তিনি ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। এরপর আর কেউ ওই বিলে মাছ ধরতে সাহস পাননি।

এ ঘটনায় স্থানীয় মইনার পাহাড় মৌজার বাসিন্দা মো. আব্দুল মুহিত এলাকাবাসীর পক্ষে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে একটি মামলা (নং-৯৩/২০২৫) দায়ের করেন। একই ঘটনায় তিন শতাধিক এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বর্ষা মৌসুমে বিলের পানি আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন শতাধিক বিঘা ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন জীবিকার তাগিদে স্থানীয় জেলে ও দরিদ্র মানুষ মাছ ধরতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে মারধরের অভিযোগও রয়েছে।

মো. আব্দুল মুহিত বলেন, ‘বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। আদালতেও মামলা করেছি। প্রশাসন তদন্ত করেছে এবং সংঘর্ষ এড়াতে ১৪৪ ধারাও জারি করেছিল। কিন্তু এখনো দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।’

তদন্তকারী কর্মকর্তা কানাইঘাট থানার এসআই মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, ‘এখানে খাস জলমহালের পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিও রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী কিছু লোক মাছ বিক্রির অর্থ জনস্বার্থে ব্যয় করে থাকে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।’

কানাইঘাট উপজেলা ভূমি অফিসের তহশিলদার সত্যপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’

এদিকে, জলমহালের পাশেই থাকা জেলেপাড়ার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালীদের বাধায় তারা হাওরে জাল ফেলতে পারেন না। এতে তাদের জীবিকা নির্বাহে চরম কষ্ট হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আশরাফ সিদ্দিকী সুহেল ও রুহেল আহমদ মুরাদ। তারা দাবি করেন, ‘বিলের আয় কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের কাজে নয়, বরং এলাকার ছয়টি গ্রামের জনস্বার্থে ব্যয় করা হয়- রাস্তা, কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে।’

তারা আরও জানান, বিলটি দীর্ঘদিন লীজবিহীন রয়েছে এবং অতীতে এলাকাবাসীর পক্ষে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিটও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি কাগজপত্র দেখে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’