https://www.emjanews.com/

14770

entertainment

প্রকাশিত

০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১৪

বিনোদন

‘ক্রাইম ১০১’: তারকাখচিত জমজমাট থ্রিলার

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১৪

ছবি: সংগৃহীত

নামটি শুনলে মনে হতে পারে এটি কোনো হালকা মেজাজের অপরাধ থ্রিলার বা কমেডি ধাঁচের সিনেমা। কিন্তু বাস্তবে ‘ক্রাইম ১০১’ একটি ডার্ক ও নিও-নয়ার অপরাধ থ্রিলার, যা ডন উইনস্লোর একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। ব্রিটিশ নির্মাতা বার্ট লেটন লস অ্যাঞ্জেলেসের আন্ডারওয়ার্ল্ডকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশেও সিনেমাটি মুক্তি পায়।

সিনেমার ‘ক্রাইম ১০১’ নামটির মধ্যেই রয়েছে দ্বৈত অর্থ। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকায় ঘটে যাওয়া নিখুঁত কিছু জুয়েলারি ডাকাতি। কোনো অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা ছাড়াই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়। এক অভিজ্ঞ গোয়েন্দার মতে, বড় অপরাধ সবসময় কিছু অলিখিত নিয়ম মেনে চলে- এই ধারণাকেই তিনি ‘ক্রাইম ১০১’ বলে ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি নামটি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত ১০১ নম্বর মহাসড়ককেও নির্দেশ করে, যা সিনেমায় চোরাচালানের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্রিস হেমসওয়ার্থ। তিনি মাইক ডেভিস নামের এক পেশাদার রত্ন চোরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি নিজের মানসিক আঘাত ও অতীতের দারিদ্র্যের ভার বহন করে চলেছেন। তার চরিত্রে একদিকে যেমন দক্ষ অপরাধীসত্তা, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে এক নিঃসঙ্গ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের প্রতিচ্ছবি।

তার বিপরীতে গোয়েন্দা লু লুবসনিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মার্ক রোফালো। প্রথমে এই চরিত্রে পেড্রো পেসকেল-কে ভাবা হলেও পরবর্তীতে সময়সূচির জটিলতায় তিনি বাদ পড়েন। লু চরিত্রটি ব্যক্তিগত জীবনের সংকটে ভুগলেও পেশাগতভাবে অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার ধারণা, মহাসড়কে সংঘটিত এসব ডাকাতি একজনই করছে, যে সবসময় নিয়ম মেনে কাজ করে।

আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র শ্যারন কলভিনে অভিনয় করেছেন হেলি বেরি। তিনি একজন বীমা দালাল, যিনি কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে এক পর্যায়ে মাইকের সঙ্গে অদ্ভুত এক চুক্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

গল্পে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে অরমন চরিত্রে ব্যারি কেওগান-এর, যিনি একজন সাইকোপ্যাথ তরুণ অপরাধী হিসেবে গল্পে নতুন উত্তেজনা যোগ করেন। পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ড বস ‘মানি’ চরিত্রে দেখা যায় নিক নয়ার-কে। তাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও সিদ্ধান্ত গল্পকে আরও জটিল ও আকর্ষণীয় করে তোলে।

প্রায় ১৪০ মিনিট দৈর্ঘ্যের সিনেমাটি ধীরগতির হলেও দৃশ্যায়ন ও সিনেমাটোগ্রাফির কারণে দর্শককে ধরে রাখে। লস অ্যাঞ্জেলেসের অন্ধকার ও মায়াবী রূপ, সামাজিক বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি এবং দুটি চমৎকার গাড়ি ধাওয়া দৃশ্য সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ। অনেকেই এটিকে মাইকেল মানের ক্ল্যাসিক থ্রিলার ‘হিট’-এর সঙ্গে তুলনা করলেও, সিনেমাটি নিজস্ব ভিজ্যুয়াল ও গল্প বলার ধরনে আলাদা পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

সব মিলিয়ে, গভীর চরিত্রায়ণ, শক্তিশালী অভিনয় ও নিও-নয়ার ঘরানার বুদ্ধিদীপ্ত প্লটের কারণে ‘ক্রাইম ১০১’ অপরাধ থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।