সিলেটের শাহপরাণ থানাধীন শিবগঞ্জ আদিত্যপাড়া এলাকায় জাতীয় দৈনিক সোনালী কণ্ঠের সিলেট বিভাগীয় প্রধান মো. ইসলাম আলীর বাসায় ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। পরিবারের সঙ্গে ওই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা এই সাংবাদিকের ঘরে গত ০২ মার্চ দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে মুখোশধারী একদল ডাকাত ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, ভোররাতে সেহরির জন্য জেগে ডাইনিং রুমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন সাংবাদিক ইসলাম আলী। তার স্ত্রী ও শিশু সন্তান পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘরের পাশের দরজা খোলা থাকার সুযোগে ৩ থেকে ৪ জন মুখোশধারী ডাকাত ভিতরে ঢুকে পড়লে তাদের একজন পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। অন্যজন তার বুক ও মুখের ওপর ধারালো অস্ত্র চেপে ধরলে তিনি আতঙ্কে অচেতন হয়ে পড়েন। কিছু সময় পর জ্ঞান ফেরার পর তিনি স্ত্রীকে ডাকলে দেখতে পান ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো এবং ট্রাংক ভাঙা অবস্থায় রয়েছে।
লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল নগদ ৯০ হাজার টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ২৬ ভরি রুপা এবং তিনটি মোবাইল ফোন। মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ আশি হাজার টাকা। পরদিন সকালে পাশের বাসার একটি পরিত্যক্ত মাঠে খালি ট্রাংক পাওয়া যায়, তবে টাকা, স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র আর পাওয়া যায়নি। পরে পাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ভুক্তভোগী ‘মাছ চোরা রাজিব’ নামে পরিচিত রাজিব হোসেনসহ আরও একজনকে শনাক্ত করেন এবং এ বিষয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন।
মামলার পর র্যাব–৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ০৪ এপ্রিল রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে টিলাগড় এলাকার ভাই ভাই হেয়ার ড্রেসারের সামনে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক রাজিব হোসেনকে আটক করা হয়। তার বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার নবপুষ্পা–৫৯, যতনপুর এলাকায়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে শাহপরাণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও থানা পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হলেও ছিনতাই কমছে না। গত শনিবার জালালাবাদ ও কোতোয়ালি থানার এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহার করে দুই সাংবাদিক ছিনতাইয়ের শিকার হন, যা নগরবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
