https://www.emjanews.com/

14860

surplus

প্রকাশিত

০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪৪

অন্যান্য

কমলগঞ্জে মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের ‘লাই হারাওবা’ উৎসব শুরু

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪৪

ছবি: সাজু মারছিয়াং

​মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্য, বর্ণিল সংস্কৃতি আর আধ্যাত্মিক আবহের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও লোকজ উৎসব ‘লাই হারাওবা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার আদমপুরস্থ মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। বর্ণাঢ্য উদ্বোধন ও আধ্যাত্মিক আবহে দুপুর সাড়ে ১২টায় তেতইগাঁও গ্রামে অবস্থিত কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। বাঁশি, ঢাক-ঢোল আর মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘পেনাথ-র সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নিজস্ব ভাষায় মন্ত্রপাঠ এবং সঙ্গীতের মূর্ছনা উৎসবে এক অনন্য আধ্যাত্মিক মাত্রা যোগ করে। সন্ধ্যায় বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত নৃত্য ও সঙ্গীত উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে।

​উৎসব আয়োজক কমিটির মতে, ‘লাই হারাওবা শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘দেবতাদের আনন্দ উৎসব। এটি মণিপুরি জনগোষ্ঠীর প্রাচীনতম উৎসবগুলোর একটি, যেখানে সৃষ্টিতত্ত্ব, বিশ্বতত্ত্ব এবং দিব্যসত্তার বন্দনা করা হয়। মূলত সনামহী ধর্মাবলম্বীরা দেবতাদের আরাধনা ও সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই উৎসব পালন করেন। ঐতিহ্যবাহী ‘লাইপৌ (মন্ত্রপাঠ) এবং ‘মাইবী জাগোই নৃত্যের মাধ্যমে এই আরাধনা সম্পন্ন হয়।

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য রবি কিরণ সিনহা (রাজেশ) জানান, তিন দিনব্যাপী (৮-১০ এপ্রিল) এই উৎসবকে ঘিরে আদমপুর এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এবারের আয়োজনে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে ভারত থেকে আসা শিল্পী ও গবেষকদের অংশগ্রহণ।

ইউনেস্কো বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অর্থায়নে পরিচালিত ‘বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে সম্প্রদায়ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাস্তবায়নথ প্রকল্পের আওতায় এই উৎসবটি আয়োজিত হচ্ছে।

​লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সচিব ওইমান লানথই ও আহ্বায়ক ইবুংহাল সিনহা (শ্যামল) জানান, এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং মণিপুরি সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের প্রাণকেন্দ্র, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঐতিহ্যকে বহন করে চলছে। চিরাচরিত রীতি মেনে আয়োজিত এই উৎসব আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে সমাপ্ত হবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিশ্বে আরও সমৃদ্ধ করবে।