ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমান বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এ পরিকল্পনা নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত সব স্তরের ‘মেধা’ ও ‘সাধারণ’ শিক্ষাবৃত্তির মাসিক হার এবং এককালীন অনুদান দ্বিগুণ করা হবে। এতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ ১০ বছর পর বৃত্তির হার পুনঃনির্ধারণ করা হচ্ছে। এতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১৮৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩৬৮ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়াবে। এই ব্যয় অর্থ বিভাগের বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করা হবে।
গত ৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় প্রাথমিক, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও পেশামূলক সব স্তরের বৃত্তির হার দ্বিগুণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৃত্তির হার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক-১) মো. সাইদুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রস্তাব পাওয়ার পর নীতিগত অনুমোদন দিয়ে অর্থ বিভাগে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, অর্থ বিভাগের বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে দেশে প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে মেধাবৃত্তি ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ২২৫ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জেএসসি স্তরে মেধাবৃত্তি ৪৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা করা হচ্ছে।
এসএসসি স্তরে মেধাবৃত্তি ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। এইচএসসি স্তরে মেধাবৃত্তি ৮২৫ টাকা থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৭৫ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা করা হচ্ছে।
স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে মেধাবৃত্তি ১ হাজার ১২৫ টাকা থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্নাতক (পাস) পর্যায়ে মেধাবৃত্তি ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৭৫ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা করা হচ্ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় দীর্ঘদিন পর এই বৃত্তি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাবে এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ বাড়াবে।
মাউশি সূত্র আরও জানিয়েছে, বৃত্তির পাশাপাশি বার্ষিক এককালীন অনুদানও দ্বিগুণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব ক্যাটাগরিতেই এই বর্ধিত হার কার্যকর হবে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
