ছবি: সোহাগী জাহান তনু।
কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবশেষে প্রথম কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বিকালে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের ১নং আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে হাফিজুর রহমানকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজন- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রসম্যাচের জন্য আদালতের অনুমতি নেন।
আদালত সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত মামলার ৮০টি ধার্য তারিখ পার হয়েছে এবং চারটি সংস্থার সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি পরিচালনা করেছেন।
গ্রেফতারের খবর পেয়ে সন্ধ্যায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেন কুমিল্লার আদালতে উপস্থিত হন। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার অনেক কিছু বেরিয়ে আসতে পারে। তিনি এ ঘটনায় জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেফতার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার এক দশক পর এই প্রথম কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হলো।
