ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা ও নেতৃত্ব নিয়ে মার্কিনিদের সংশয়
জনপ্রিয়তা নেমেছে ৩৬ শতাংশে
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৪
ছবি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মানসিক সক্ষমতা ও আচরণ নিয়ে দেশটির জনগণের মধ্যেই গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোস-এর যৌথ জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (২১ এপ্রিল) শেষ হওয়া ছয় দিনব্যাপী এই জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে তার মেয়াদের সর্বনিম্ন ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। বিপরীতে, ৬২ শতাংশ মার্কিনি তার কর্মকাণ্ডের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার পরপরই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ছিল ৪৭ শতাংশ, যা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকেরও বেশি মনে করেন, গত এক বছরে ট্রাম্পের মানসিক তীক্ষ্ণতা আগের তুলনায় কমেছে। এমনকি রিপাবলিকান পার্টি-এর সমর্থকদের মধ্যেও এ বিষয়ে বিভক্তি দেখা গেছে। প্রায় ৪৬ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পকে শান্ত মেজাজের মানুষ হিসেবে মানতে নারাজ।
অন্যদিকে, মাত্র ২৬ শতাংশ সাধারণ নাগরিক তাকে ধৈর্যশীল হিসেবে বিবেচনা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান নিয়ে যুদ্ধসংক্রান্ত বক্তব্য এবং ধর্মীয় নেতা পোপ লিও-কে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণের ঘটনাও জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যেখানে পোপের প্রতি ৬০ শতাংশ মার্কিনির ইতিবাচক ধারণা রয়েছে, সেখানে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৩৬ শতাংশ।
ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের সক্ষমতার ওপর আস্থা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশে। এছাড়া মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিনি বিশ্বাস করেন, ইরানের ওপর হামলা যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ করবে।
অন্যদিকে, ন্যাটো-এর মতো আন্তর্জাতিক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকির প্রতিও সাধারণ মানুষের সমর্থন খুবই কম। জরিপে মাত্র ১৬ শতাংশ নাগরিক ন্যাটো ত্যাগের পক্ষে মত দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, বিতর্কিত মন্তব্য, মিত্র দেশ ডেনমার্ক-কে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের হুমকি এবং সংবেদনশীল ইস্যুতে অসংলগ্ন আচরণের কারণে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও স্থিতিশীলতা নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যেই এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
