ছবি: জামিল লিমন ও নাহিদা এস. বৃষ্টি।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল (পিএইচডি) শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগ। নিখোঁজরা হলেন ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন ও নাহিদা এস. বৃষ্টি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গেলো বৃহস্পতিবার সর্বশেষ তাদের দেখা যায়। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
লিমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছেন। তাকে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তার বাসায় দেখা যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বৃষ্টিকে একই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে শেষবার দেখা যায়। তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত। তার ক্ষেত্রেও নিখোঁজ রিপোর্ট করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, লিমনের বাসা থেকে বৃষ্টির সর্বশেষ অবস্থানস্থল প্রায় ১০ মিনিটের দূরত্বে। তারা বন্ধু এবং একসঙ্গে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার বিকেল ৫টার কিছু আগে তাদের এক পারিবারিক বন্ধু যোগাযোগ করতে না পেরে বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপরই নিখোঁজ সংক্রান্ত তদন্ত শুরু হয় এবং তাদের তথ্য ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, লিমন ও বৃষ্টি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কও ছিল। তারা ভবিষ্যতে একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনা করছিলেন, তবে হঠাৎ করে এভাবে নিখোঁজ হওয়ার মতো কোনো ইঙ্গিত ছিল না।
তবে বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত বলেন, আগে তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে সক্রিয়ভাবে সম্পর্কে ছিলেন না।
নিখোঁজ হওয়ার দিন বৃষ্টি তার ল্যাবে ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও খাবারের বক্স রেখে যান। তার সঙ্গে ছিল শুধু পার্স ও মোবাইল ফোন। অন্যদিকে, লিমন বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হলেও তার পাসপোর্ট বাসায় পাওয়া গেছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমনের ফোনের সর্বশেষ অবস্থান বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তার বাসার আশপাশে শনাক্ত হয়। আর বৃষ্টির ফোন বিকেল ৫টার দিকে ক্যাম্পাস এলাকায় অবস্থান করে। তবে এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা কেউই এভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে থাকার মতো নন। হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ায় পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তারা এ ঘটনায় ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সম্পৃক্ততা চেয়েছে। পাশাপাশি ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী তাদের হেফাজতে নেই।
