ছবি: সংগৃহীত
বৃষ্টিতে ভিজলেই ঠান্ডা লাগবে- এটি অনেকের প্রচলিত ধারণা হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। বৃষ্টির পানিতে সাধারণত কোনো জীবাণু বা ভাইরাস থাকে না, তাই সরাসরি ঠান্ডা লাগার কারণ হিসেবে বৃষ্টিকে দায়ী করা যায় না।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় বা শরীর ভিজে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। এতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, ফলে সর্দি-কাশির মতো অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।
গবেষকদের মতে, বৃষ্টির রয়েছে বেশ কিছু ইতিবাচক দিকও। প্রচণ্ড গরমের পর বৃষ্টি পরিবেশের দূষণ কমায় এবং বাতাস পরিষ্কার করে। পাশাপাশি বৃষ্টির ফোঁটা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং মানুষের মুড ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞানীরা আরও জানান, বৃষ্টির সময় বাতাসে নেগেটিভ আয়ন বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নিঃসরণ বাড়িয়ে আনন্দ ও স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করতে পারে। প্রকৃতির সরাসরি সংস্পর্শও মানুষের মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়। এছাড়া বৃষ্টি বাতাসের ধুলোবালি ও দূষণ কমিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসকে আরামদায়ক করে তোলে।
ত্বক ও চুলের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি সাধারণত তেমন ক্ষতিকর নয়। এর পিএইচ সাধারণত ৫ থেকে ৬-এর মধ্যে থাকায় এটি ত্বকের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের কাছাকাছি। তবে শহরাঞ্চলে দূষণের কারণে অনেক সময় বৃষ্টির পানি অম্লীয় হয়ে যেতে পারে, যা ত্বকে সাময়িক জ্বালা বা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে কিছুটা দূষণ থাকতে পারে, তাই সে সময় সরাসরি ভেজা এড়িয়ে চলা ভালো। যদি কেউ বৃষ্টিতে ভিজে যান, তবে কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে- ভেজা কাপড় দ্রুত পরিবর্তন করা, প্রয়োজনে উষ্ণ পানিতে গোসল করা এবং শরীর ও চুল ভালোভাবে শুকিয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা। এতে ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি কমে এবং শরীর আরও সতেজ থাকে।
সব মিলিয়ে, সঠিক যত্ন নিলে বৃষ্টিতে ভেজা শুধু ক্ষতিকর নয়, বরং মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দেরও উৎস হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
