সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে দলবেঁধে অবস্থান: অ/স্ত্রসহ ১০ জন ধরা
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ ১৫:০৮
সিলেট নগরী থেকে ১০ জনকে আটক করেছে র্যাব-৯ সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির। শনিবার (২ মে) বিকেলে ও সন্ধ্যায় মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন জেলা স্টেডিয়াম এলাকা এবং আম্বরখানা পয়েন্টের একটি আবাসিক হোটেলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়। এরই মধ্যে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান করছে। তখন সেখানে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিলো। পরে সেখানে অভিযান চালালে সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ঘিরে ফেলে ৫ জনকে আটক করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে বিপুল জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আম্বরখানা পয়েন্টের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে অভিযান চালিয়ে আরও ৫ জনকে আটক করা হয়।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ৬টি ধারালো ছুরি, ব্লেড এবং ছিনতাইকৃত ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব।
আটকরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার নন্দীপাড়া এলাকার রুহুল আমীনের ছেলে মো. রনি (২৪), একই এলাকার সিরাজের ছেলে মো. রাসেল (২৮), বন্দর থানার চন্দীতলা কবরস্থানপট্টির রতন বেপারীর ছেলে শাহাজালাল বেপারী (২৯), হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মারুরারচকের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. অপু (৩২), মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদখানির মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. আজিজুর রহমান (২৪), নারায়ণগঞ্জের নন্দীপাড়ার ওমর আলীর ছেলে আবু বকর (২৪), একই এলাকার বাচ্চু ভূইয়ার ছেলে মো. জিহাদ হোসেন (২৮), কাশিপুর এলাকার মৃত রহমান আলীর ছেলে মো. নুর ইসলাম (৪০), নন্দীপাড়া (দেবক আখড়া) এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে মো. সিয়াম হোসেন (২১) এবং দেওভোগ ভূইয়ারবাগ এলাকার মুকুল কাজীর ছেলে মো. নাজমুল ইসলাম (২৬)।
র্যাব জানায়, আটককৃতদের অধিকাংশই নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং তারা আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৯। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
