সিলেট ও সুনামগঞ্জে পাথর কোয়ারি খুলতে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে কমিটি গঠন
পাথর উত্তোলন হবে না ইসিএ এলাকা জাফলং থেকে
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ ১৩:৫১
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্ধ থাকা পাথর উত্তোলনে ইজারা দেয়া যায় কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আন্ত:মন্ত্রনালয়ের বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিলেট বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পাথর আহরণ নিয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন “আমরা সিলেট বিভাগের দুটি জেলা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার পাথর কোয়ারি বিষয়ে একটি সভা করেছি। সভায় পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে খনিজ সম্পদ আইন ও বিধিমালা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত সকল আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া যেসব জায়গাকে ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া (প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেমন সিলেটের জাফলং, সেসব এলাকা ব্যতীত অন্যান্য স্থানে কীভাবে সীমিত আকারে পাথর কোয়ারিগুলো ইজারা প্রদান করা যায়, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আলোচনা করা হয়”।
সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সভায় উপস্থিত সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রথমে মাঠ পর্যায়ের একটি সার্ভে রিপোর্ট প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে দুই জেলার জেলা প্রশাসক, ভূ-তাত্ত্বিক জরিপের জন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক থাকবেন। এছাড়া প্রয়োজন হলে কমিটিতে আরও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি জানান, এই কমিটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদীগুলো, যেগুলো বালি ও পাথরের স্তুপের কারণে নাব্যতা হারাচ্ছে, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। পাশাপাশি যেসব স্থানে নদীভাঙনের কারণে সীমান্তের পরিবর্তন হচ্ছে, সেসব এলাকাও পরিদর্শন করা হবে। এছাড়া পাথর কোয়ারি থেকে কী পরিমাণ এবং কত গভীরতা পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, সে বিষয়ে কমিটি সুপারিশ প্রদান করবে।
তিনি আরো জানান, এছাড়া যেসব এলাকায় পর্যটন স্পট রয়েছে, বিশেষ করে সাদাপাথর ও বিছানাকান্দি, সেসব স্থানে কীভাবে পর্যটক আকর্ষণ বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়েও সুপারিশ করা হবে। একই সঙ্গে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়েও মতামত প্রদান করা হবে। যেহেতু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, তাই দুই জেলার পুলিশ সুপারকেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন, পাথর লুট বা অবৈধ কর্মকাণ্ড না ঘটে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি মাসের শেষ দিকে সব রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এরপর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় আবারও একটি সভা আহ্বান করা হবে।
তিনি জানান, বিভিন্ন পাথর কোয়ারি নিয়ে উচ্চ আদালতে কিছু মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলার বিষয়ে জেলা প্রশাসকগণ অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে মামলাগুলো নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সবশেষে তিনি বলেন, “যা কিছু করা হবে, তা আইন মেনে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করেই করা হবে।”
