ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌর এলাকার সালামতপুরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নজাইখাল বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পলি জমে ভরাট হওয়া এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলে খালটি এখন অনেকটাই সরু নালায় পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, কৃষি, পরিবেশ ও নৌ-চলাচল রক্ষায় দ্রুত খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা জরুরি।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে খালের দুই পাড় দখল করে স্থায়ী স্থাপনা ও বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে খালের স্বাভাবিক প্রশস্ততা অনেকাংশে কমে গেছে।
এছাড়া বহু বছর ধরে খনন না হওয়ায় খালের তলদেশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বাজারের ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেনেজ লাইনের বর্জ্য সরাসরি খালে ফেলার কারণে পানিও দূষিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নবীগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমির সেচ কার্যক্রম এই নজাইখালের ওপর নির্ভরশীল। খালটি পুনঃখনন করা হলে কৃষকরা সময়মতো সেচের পানি পাবেন এবং বর্ষা মৌসুমে পৌরসভা ও আশপাশের গ্রামগুলোর জলাবদ্ধতা কমে আসবে।
এলাকাবাসী জানান, একসময় এই খাল দিয়ে বড় বড় মালবাহী নৌকা চলাচল করত। খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা গেলে স্বল্প খরচে নৌপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগও তৈরি হবে। পাশাপাশি একটি সচল খাল এলাকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে খালের সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে। একইসঙ্গে আধুনিক পদ্ধতিতে খালের গভীরতা ও স্রোতের গতিপথ বিবেচনায় নিয়ে খনন কাজ পরিচালনার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ পৌর প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, “পৌরসভা হয়ে বয়ে যাওয়া নজাইখালটি দ্রুত খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। খাল পুনঃখননের জন্য একটি প্রকল্প দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।”
দীর্ঘদিনের অবহেলায় হারাতে বসা নজাইখালটি পুনরুদ্ধারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
