ছবি: সংগৃহীত
সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করবে আর শিক্ষকরা তাদের শিক্ষা দেবেন। শুধুমাত্র দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ নয়, শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়নের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সিলেটের ওসমানীনগরের ঐতিহ্যবাহী তাজপুর ডিগ্রি কলেজ আয়োজিত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও সহপাঠ্যক্রমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, অতীতে আমরা গাছের ছায়ায় বেঞ্চে বসে লেখাপড়া করতে দেখেছি। সেইসব শিক্ষার্থীরাই আজ বিশ্বের বড় বড় জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমরা শুধু নতুন ভবন ও সুন্দর রাস্তা চাই, কিন্তু শিক্ষার মূল কাজটিই ঠিকভাবে করছি না।
তিনি শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তোমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে—কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, কেউ ডিসি, এসপি কিংবা ইউএনও হবে। কিন্তু এখন অনেকেই শুধু বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। বিদেশে গিয়ে অনেকে ট্যাক্সি চালায় বা রেস্টুরেন্টে কাজ করে টাকা আয় করছে, কিন্তু নিজেদের মেধা বিকাশের চিন্তা কমে গেছে।
এমপি লুনা বলেন, বর্তমানে সমাজে শুধু রাস্তাঘাটের দাবি বেশি শোনা যায়, কিন্তু শিক্ষার মান নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইউরোপ-আমেরিকার মতো নয় যে সব রাস্তা পাকা থাকবে। গ্রামাঞ্চলে কিছু রাস্তা কাঁচা থাকবেই। তবে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের লুটপাটের কারণে অনেক উন্নয়ন কাজ সম্ভব হয়নি।
তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে একটি ‘প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট’ গঠনের আহ্বান জানান, যাতে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে।
ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ স্কুলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সংখ্যা বেশি। সমাজ উন্নয়নে ছেলে-মেয়ে উভয়ের সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি গরুর গাড়ি দুই চাকার উপর চলে। একটি চাকা ছোট হলে গাড়ি চলতে পারে না। সমাজ উন্নয়নেও ছেলে ও মেয়েদের সমানভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফি দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও অনেকেই মোটরসাইকেল কিংবা দামি স্মার্টফোন ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, প্রবাসীরা যেন সন্তানদের বিলাসিতার জন্য নয়, লেখাপড়ার জন্য টাকা পাঠান। মানুষ সাইকেল চালিয়েও চলতে পারে। লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখনও সাইকেল চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তাহসিনা রুশদীর লুনা আরও বলেন, ছাত্ররা পড়াশোনা করবে, খেলাধুলা করবে এবং নিজেদের জীবন গড়বে। বিলাসিতার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খসরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক আমিনুল ইসলাম রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মইনুল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চেয়ারম্যান এসটি এম ফখর উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ, সংবর্ধীত অতিথি সহকারী অধ্যাপক কমল কলি চৌধুরী, সাবেক শিক্ষক সাংবাদিক ড. মোশাহীদ আলী, সহকারী অধ্যাপক আবুল খায়ের, গর্ভনিং কসিটির সদস্য জাহেদুর রহমান চৌধুরী, বেলায়েত করিম সুজন, প্রভাষক আতাউর রহমান সাদী, কলেজ ছাত্র জুনায়েদ হোসেন, রায়হান আহমদ, নাইম আহমদ, ছাত্রী নাবিলা আনিকা ও সুমাইয়া বেগমসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে তাহসিনা রুশদীর লুনা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ছাত্রী সেলিনা আক্তার শিউলী ও গীতা পাঠ করেন সহকারী অধ্যাপক সুশান্ত দেবনাথ।
