পঞ্চম দিনের সকালে ম্যাচের ভাগ্য তখনও পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি, তবে শেষ হাসি যে বাংলাদেশেরই হবে, সেটার আভাস মিলছিল ধীরে ধীরে। জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ৩ উইকেট, আর পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ১২১ রান। শুরুতে প্রতিরোধ গড়ার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত আর টিকতে পারেনি সফরকারীরা। ৭৮ রানের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে সিরিজে পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়ে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ।
টেস্ট ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ এক মাইলফলক। এর আগে ৮৩টি টেস্ট সিরিজ খেলেও কোনো প্রতিপক্ষকে একাধিকবার একাধিক ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করতে পারেনি তারা। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে এবার একই প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ, ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও।
তবে দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। প্রথম ঘণ্টায় বল হাতে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি বোলাররা। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান মিলে ধীরে ধীরে জুটি গড়ে তুলছিলেন, যা ম্যাচে নতুন সমীকরণ তৈরি করছিল। এমনকি এক পর্যায়ে সুযোগ এসেও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ, যখন নাহিদ রানার বাউন্সারে সাজিদের পুল শট ফাঁক গলে নিরাপদ জায়গায় পড়ে।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় তাইজুল ইসলামের হাত ধরে। তার স্পেলে ভাঙে রিজওয়ান ও সাজিদের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। সাজিদ খান স্লিপে ক্যাচ দিলে চাপ আবার পুরোপুরি ফিরে আসে পাকিস্তানের ওপর। এরপর খুব দ্রুতই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ।
শরিফুল ইসলামের বলে বিদায় নেন সেট ব্যাটার রিজওয়ান। আর শেষদিকে খুররম শেহজাদ আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিলে নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে শেষ তিন উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ এক সমাপ্তি টানে স্বাগতিকরা।
সব মিলিয়ে এই জয় শুধু একটি ম্যাচ বা সিরিজ জয়ের গল্প নয়, বরং ধারাবাহিকতা, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্যের প্রতীক হয়ে থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে।
