https://www.emjanews.com/

15998

international

প্রকাশিত

০১ জুন ২০২৬ ০৯:৪৯

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত প্রশমনে নতুন মার্কিন প্রস্তাব

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ ০৯:৪৯

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় ধাপে ধাপে উত্তেজনা কমানোর একটি পরিকল্পনা উত্থাপন করেছে ওয়াশিংটন।

রোববার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবের প্রথম ধাপে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান বা হামলা আরও বাড়ানো থেকে বিরত থাকবে।

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ সংঘাত প্রশমনের জন্য একটি কার্যকর পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং ধীরে ধীরে যুদ্ধবিরতির দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ এনে দিতে পারে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই প্রস্তাব এগিয়ে নিতে এবং একটি সমঝোতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তবে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নবিহ বেরি, যিনি হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতি মেনে চলার বিষয়ে ‘গ্যারান্টি’ দেওয়ার দাবি করেছেন, তিনি ইসরায়েলের ওপরই দায় চাপিয়েছেন। তার বক্তব্য, প্রথমে গুলি চালানো বন্ধ করতে হবে ইসরায়েলকেই।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানে লেবাননের অভ্যন্তরে আরও অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, সর্বশেষ অভিযানে দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৯০০ বছর পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পাহাড়ি অবস্থান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারা।

এর আগে শনিবার যুদ্ধবিরতির পর থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে হিজবুল্লাহর অন্যতম বৃহৎ রকেট ও হামলার ঘটনা ঘটে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তাজনিত নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক হামলার মুখে ইসরায়েলকে কেবল আঘাত সহ্য করে যেতে হবে; এমন প্রত্যাশা ওয়াশিংটনের নেই। তবে একই সঙ্গে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করা থেকে বিরত রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুদ্ধবিরতি কার্যত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ফলে নতুন মার্কিন উদ্যোগ সফল না হলে সীমান্ত অঞ্চলে আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।