ইএসএ-ইরান ক্লেশ
ইরানের হা.মলায় ক্ষ.তিগ্রস্ত কুয়েত বিমানবন্দর, সব ফ্লাইট স্থগিত
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ ১২:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির সব ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার ভোরে চালানো এ হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা (KUNA) জানায়, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং হামলায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টার্মিনাল-১ কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের আরেকটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সংস্কার শেষে মাত্র সোমবার এটি পুনরায় চালু করা হয়েছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপে নতুন বিমান হামলা পরিচালনা করেছে।
পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় ধরনের হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় পক্ষের নতুন সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চলমান শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, মঙ্গলবার রাতে ইরানের খার্গ দ্বীপমুখী বতসোয়ানার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি ইরানি বন্দর অবরোধ অমান্য করছিল। এর জবাবে ইরান লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি ইরানি সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ইরান দাবি করেছে, তারা ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সব হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে অথবা লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আশা প্রকাশ করেছেন যে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ বিষয়ে সমঝোতা সম্ভব হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ যুদ্ধবিরতিকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে এবং নতুন করে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
